সিয়াটল, ২ জুলাই: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ ফুটবলপ্রেমীরা দেখলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ম্যাচ। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল বেলজিয়াম।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। ২৫তম মিনিটে ইসমাইলা সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হাবিব দিয়ারা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে বেলজিয়াম একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সেনেগালের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখান।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সার। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার ভুলের সুযোগ নিয়ে শক্তিশালী শটে জাল কাঁপিয়ে সেনেগালকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরাই বড় অঘটন ঘটাতে চলেছে।
কিন্তু এরপরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৮৬তম মিনিটে গোল করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ফেরান রোমেলু লুকাকু। মাত্র তিন মিনিট পর, ৮৯তম মিনিটে অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্স সমতা ফেরান। শেষ মুহূর্তের এই দুই গোল ম্যাচকে গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। ১২৫তম মিনিটে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন টিলেমান্স। ভিএআর পর্যালোচনার পর বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। চাপের মুখে অসাধারণ স্থিরতা দেখিয়ে স্পট-কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করেন টিলেমান্স। সেই গোলেই সম্পূর্ণ হয় বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
ম্যাচে আরেকটি বিরল ঘটনাও ঘটে। প্রথমার্ধে তিনজন দর্শক মাঠে ঢুকে পড়ায় কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধ রাখতে হয় এবং নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের মাঠ থেকে সরিয়ে দেন।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ফলাফল: বেলজিয়াম ৩-২ সেনেগাল (অতিরিক্ত সময়)
- বেলজিয়ামের গোল: রোমেলু লুকাকু (৮৬'), ইউরি টিলেমান্স (৮৯', ১২০+৫' পেনাল্টি)
- সেনেগালের গোল: হাবিব দিয়ারা (২৫'), ইসমাইলা সার (৫১')
গ্রুপ পর্বে তুলনামূলকভাবে ছন্দহীন পারফরম্যান্সের পর নকআউটে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিল বেলজিয়াম। অন্যদিকে, ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার মেনে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হলো সেনেগালকে।
এই নাটকীয় জয়ের ফলে বেলজিয়াম এখন শেষ ষোলোয় উঠল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী। আর সেনেগালের জন্য এটি হয়ে রইল এক হৃদয়ভাঙা বিদায়, কারণ জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও তারা শেষ পর্যন্ত স্বপ্নপূরণ করতে পারল না।


