বিশেষ সংবাদদাতা, নতুন দিল্লি:
সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইন বিলম্ব না করে অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে গণঅবস্থান কর্মসূচি ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। 'ন্যাশনাল কোয়ালিশন ফর উইমেনস রিজার্ভেশন'-এর ব্যানারে আয়োজিত এই আন্দোলনে হরিয়ানা মহিলা সমিতি (AIDWA)-সহ দেশের একাধিক প্রগতিশীল নারী অধিকার সংগঠন সক্রিয়ভাবে শামিল হয়েছে।
প্রধান দাবিসমূহ ও আন্দোলনের প্রেক্ষিত
বিক্ষোভকারী নেতৃবৃন্দের মূল অভিযোগ, ২০২৩ সালে 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' নামাঙ্কিত আইনটি সংসদে পাস হওয়া সত্ত্বেও, আসন পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) এবং নতুন জনগণনার (Census) আইনি শর্ত জুড়ে দিয়ে এর কার্যকারিতাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার দোহাই দিয়ে নারীদের ন্যায্য রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে বলে দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত মূল দাবিগুলি পেশ করা হয়েছে:
শর্তহীন ও দ্রুত বাস্তবায়ন: কোনো রকম বিলম্ব ছাড়া সংসদ ও প্রতিটি রাজ্য বিধানসভায় অবিলম্বে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ চালু করতে হবে।
সংবিধান সংশোধন: সংরক্ষণ আইনটিকে নতুন জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত রাখার শর্ত বাতিল করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধন আনতে হবে।
প্রান্তিক নারীদের অংশগ্রহণ: রাজনীতিতে দলিত, আদিবাসী ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর নারীদের সুনির্দিষ্ট অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধিত্বের পরিসংখ্যান:
বর্তমানে ভারতীয় লোকসভায় নারী প্রতিনিধির হার মাত্র ১৩.৬ শতাংশ এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে তা গড়ে ১০ শতাংশের নিচে। অথচ মেক্সিকো, রুয়ান্ডা কিংবা কিউবার মতো দেশে আইনসভায় নারীদের উপস্থিতি ৫০ শতাংশের বেশি।
নেতৃত্বের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি
আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (AIDWA) সর্বভারতীয় সহ-সভানেত্রী জগমতী সাঙ্গোয়ান এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ঊষা সরোহা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, "কয়েক দশকের আন্দোলনের পর আইন পাস হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। শুমারি ও সীমানা নির্ধারণের অজুহাতে এই আইনকে ঠেলে দেওয়া নারীদের সাথে প্রতারণার শামিল।"
সংসদের বর্তমান অধিবেশন চলাকালীন যন্তর মন্তরে এই অবস্থান ধর্মঘট নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে বলে সর্বভারতীয় আহ্বায়ক কমিটি জানিয়েছে। হরিয়ানার বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দিল্লি, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থান থেকে আগত নারী প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে ধারাবাহিকভাবে অংশ নিচ্ছেন।




