" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের বড় অংশের সমর্থন পেল যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলন, সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে তীব্র বিতর্ক //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের বড় অংশের সমর্থন পেল যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলন, সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে তীব্র বিতর্ক

 



নয়াদিল্লি: যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলন এবং ২০ জুলাই "চলো সংসদ" কর্মসূচিতে পুলিশের পদক্ষেপকে ঘিরে দেশের আইনজীবী মহলের এক বড় অংশ সরব হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন আইনজীবী সংগঠন, প্রবীণ আইনজীবী এবং মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা ঘটনাটিকে শুধু আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবে নয়, বরং সংবিধানপ্রদত্ত গণতান্ত্রিক অধিকারের বিষয় হিসেবেও সামনে এনেছেন।


পুলিশি অভিযানের পর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (SCBA) একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে অভিযোগ তোলে যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে "অতিরিক্ত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ" হয়েছে। সংগঠনের নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করে। তাদের বক্তব্য, একদিকে জাতীয় স্তরের পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা—এই দুই ঘটনাই প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত বহন করে।


অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন (SCAORA) সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ক)-এ বর্ণিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অনুচ্ছেদ ১৯(১)(খ)-এ স্বীকৃত শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অধিকারের কথা তুলে ধরে। সংগঠনের মতে, রাষ্ট্র যদি কোনো প্রতিবাদে হস্তক্ষেপ করে, তবে সেই পদক্ষেপকে বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা এবং আনুপাতিকতার সাংবিধানিক মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।


এদিকে, ৬৫০-রও বেশি আইনজীবীর স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে প্রবীণ আইনজীবীরা প্রশাসনের কাছে সংলাপের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদ জনগণের অভিযোগ ও দাবির কেন্দ্র হওয়া উচিত, তাকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রাখা যায় না।


শুধু বিবৃতি দিয়েই থেমে থাকেননি আইনজীবীদের একাংশ। আটক ছাত্রছাত্রীদের আইনি সহায়তা দিতে তারা বিভিন্ন থানায় উপস্থিত হন। অভিযোগ ওঠে, আটক ব্যক্তিদের এফআইআর এবং ডিটেনশন সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত সরবরাহ করা হয়নি। পাশাপাশি, বিভিন্ন থানায় আটক ব্যক্তিদের স্থানান্তর করায় আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে আইনজীবী মহলের মধ্যে মতভেদও রয়েছে। কিছু প্রবীণ আইনজীবীর মতে, প্রতিবাদের সময় যদি পুলিশকর্মীরা আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে সেই ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং আন্দোলনের আয়োজকদেরও জনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।


অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) হস্তক্ষেপ বা জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালত জানায়, বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে এবং আদালতে উপস্থাপিত যাচাই-বাছাইহীন ভিডিওর ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়।


বিশ্লেষকদের মতে, যন্তর মন্তরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবী সমাজের এই সক্রিয় অবস্থান শুধু একটি নির্দিষ্ট আন্দোলনের প্রতি সংহতি নয়; বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং আটক ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষার মতো মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্নগুলিকেও নতুন করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies