নয়াদিল্লি, ৩০ জুন ২০২৬: ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩১তম সেনাপ্রধান (চিফ অফ আর্মি স্টাফ) হিসেবে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জেনারেল ধীরজ সেঠ। নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক লনে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি অবসরগ্রহণকারী জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী সেনাপ্রধানকে সেরিমনিয়াল গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং তিনি জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি, খড়কবাসলার প্রাক্তন ছাত্র জেনারেল সেঠ ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আর্মার্ড কোরে কমিশন লাভ করেন। প্রায় চার দশক দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অপারেশনাল, কৌশলগত, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধ-সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে রয়েছে মরু অঞ্চলে একটি আর্মার্ড রেজিমেন্ট, পশ্চিম থিয়েটারে একটি আর্মার্ড ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসদমন বাহিনীর নেতৃত্ব।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদায় তিনি সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান আক্রমণাত্মক গঠন সুদর্শন চক্র কোরের (একবিংশ কোর) নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর্মি কমান্ডার পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ড এবং সাউদার্ন কমান্ড—দুটি অপারেশনাল আর্মি কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল সম্মান অর্জন করেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
জেনারেল সেঠের নিয়োগ একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরীর পর তিনিই প্রথম আর্মার্ড কোরের কর্মকর্তা, যিনি প্রায় তিন দশক পর সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন। এছাড়া তিনি দ্বিতীয় লান্সার্স রেজিমেন্ট থেকে সেনাপ্রধান হওয়া তৃতীয় কর্মকর্তা, যা তাঁর রেজিমেন্টের জন্যও একটি বিশেষ গৌরবের বিষয়।
জেনারেল সেঠ একটি সামরিক পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কৃষ্ণ মোহন সেঠ ১৯৯৭ সালে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন এবং তিনিও একবিংশ স্ট্রাইক কোর ও তৃতীয় কোরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, পিতা ও পুত্র দুজনেই সুদর্শন চক্র কোরের নেতৃত্ব দিয়েছেন—যা সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিরল দৃষ্টান্ত।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল সেঠের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া, থিয়েটার কমান্ড গঠন এবং একীভূত যুদ্ধ-সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও গতি পাবে। চীন ও পাকিস্তান সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাঁর অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দূরদৃষ্টি সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি জোরদার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেনারেল সেঠের চিফ অফ আর্মি স্টাফ হিসেবে মেয়াদ ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত থাকবে বলে জানা গেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের এই মুহূর্তে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য শুভেচ্ছাবার্তা এসেছে, যেখানে সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তায় তাঁর সফল নেতৃত্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে!


