ভিউস নাউ নিউজ ডেস্ক | কলকাতা
জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষা, এনটিএ (NTA)-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার কলকাতার রাজপথে বিশাল ছাত্র-যুব মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শিয়ালদহ ও কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ মিছিল ধর্মতলা ও ডরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছলে হাজার হাজার ছাত্র-যুব অংশ নেন।
মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন এবং মিছিল চলাকালীন সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তার তীব্র নিন্দা জানান।
দেবাঞ্জন দে বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ছাত্রদের ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। তাঁর দাবি, কলকাতার রাজপথ থেকে যে প্রতিবাদের বার্তা উঠেছে, তা দিল্লির যন্তর মন্তর ও সংসদ ভবন পর্যন্ত পৌঁছেছে।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং এনটিএ বাতিলের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তাঁর অভিযোগ, গত ১৪ বছরে একাধিক কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কেন্দ্র সরকার এনটিএ-র বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। শুধু আধিকারিক বদল করে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রসঙ্গে দেবাঞ্জন দে বলেন, "আজ থেকে বাংলার প্রতিটি প্রান্তকে আমরা প্রতিরোধের যন্তর মন্তরে পরিণত করব।"
সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ
মিছিল চলাকালীন ডরিনা ক্রসিং এলাকায় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে দেবাঞ্জন দে বলেন, সকাল থেকে মৌলালী যুবকেন্দ্রে বিজেপির একটি কর্মীসভা চলছিল এবং সেখান থেকে আসা কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ছাত্র মিছিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হামলার ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলে তিনি দাবি করেন, আন্দোলন দমাতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে বিজেপি বা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আক্রান্ত সংবাদকর্মীদের পাশে থাকার বার্তা
সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলাকে গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে দেবাঞ্জন দে আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, "আপনাদের নিজস্ব হাউস যদি আপনাদের পাশে না-ও দাঁড়ায়, বাংলার ছাত্র সমাজ আপনাদের সুরক্ষায় রাজপথে নামবে।"
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির দাবিও জানান তিনি।
এসএফআই-এর দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষার প্রশ্নে এই আন্দোলন আগামী দিনেও আরও বিস্তৃত হবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


