বারুইপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ফের চাঞ্চল্য। সোমবার (৬ জুলাই) একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩০ বছর বয়সি কৃষ্ণকান্ত হালদারের দেহ। তিনি গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ তল্লাশির পর একই পুকুর থেকে তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধার করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগের দিন এই পুকুর থেকেই বস্তাবন্দি অবস্থায় এক ১২ বছরের নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছিল।
পরপর একই জলাশয় থেকে দুটি দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমদিকে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছিলেন, নাবালিকার গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সঙ্গে কৃষ্ণকান্ত হালদারের মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না। তবে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত দুটি ঘটনাকে পৃথক মামলা হিসেবেই দেখা হচ্ছে এবং সরাসরি কোনও সংযোগের প্রমাণ এখনও মেলেনি।
এদিকে এলাকায় গুঞ্জন ছড়ায় যে, নাবালিকার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালীন গণরোষের শিকার হওয়া ব্যক্তিই কৃষ্ণকান্ত হালদার হতে পারেন। যদিও এই দাবি এখনও পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
বারুইপুর মহকুমা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষ্ণকান্ত হালদারের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা, বিবাদ বা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি খুন—সব দিকই তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, নাবালিকার গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্ত—আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, খুন, প্রমাণ লোপাট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার জেরে বারুইপুর, সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুর থানার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কৃষ্ণকান্ত হালদারের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য ফরেন্সিক তথ্য হাতে এলেই তদন্তে আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।


