ভিউজ নাও | দিল্লি ব্যুরো | বিশেষ প্রতিবেদন
নয়াদিল্লি: সংসদ অভিমুখে ঐতিহাসিক প্রতিবাদ মিছিল সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও আন্দোলনের গতি একটুও স্তিমিত হয়নি। বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্র-যুবদের ব্যাপক সাড়া ও অংশগ্রহণে যন্তর মন্তরের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি আরও দৃঢ় ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ রূপ নিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এটি কেবল একটি পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়; বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে বৃহত্তর জনআন্দোলনের অংশ। তাঁদের দাবি, NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-কে বাতিল করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
যন্তর মন্তরের অবস্থান মঞ্চে উপস্থিত থেকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড এম. এ. বেবি, যিনি একসময় সর্বভারতীয় SFI-এর সভাপতি ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কমরেড কে. রাধাকৃষ্ণন, রাজ্যসভার সাংসদ কমরেড ভি. শিবদাসন (প্রাক্তন সর্বভারতীয় SFI সভাপতি), SFI-এর সর্বভারতীয় সভাপতি কমরেড আদর্শ, সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি কমরেড সুভাষ, এবং কক্রোচ জনতা পার্টির নেতা কমরেড অভিজিৎ।
নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ ও কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদি গণআন্দোলনের রূপ নেবে। ছাত্র-যুবদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, সমতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিতে পারে।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা—অনশন শেষ হয়েছে, কিন্তু সংগ্রাম নয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরের এই গণঅবস্থান ও দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ভিউজ নাও বিশ্লেষণ:
যন্তর মন্তরের এই ধারাবাহিক আন্দোলন শুধুমাত্র NEET বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আজ দেশের শিক্ষা নীতি, পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে কেন্দ্র সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং ছাত্র-যুব সংগঠনগুলির কর্মসূচি এই আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
প্রধান দাবিসমূহ:
- ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ।
- ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) বাতিল।
- স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থা গঠন।
- শিক্ষা ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
— ভিউজ নাও | দিল্লি ব্যুরো



