বিশেষ প্রতিনিধি, বিজয়ওয়াড়া:
অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে গত ৩০ ও ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস (CITU)-এর আহ্বানে পালিত হলো রাজ্যব্যাপী ‘চলো কালেক্টরেট’ কর্মসূচি।
আন্দোলনের প্রধান দাবি ও প্রেক্ষাপট
সিআইটিইউ রাজ্য কমিটির নেতৃত্বের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশের ৭১টি নির্ধারিত তপশিলি শিল্পে (Scheduled Employments) কর্মরত প্রায় ৫০ লাখ কর্মী দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
১২-১৯ বছর ধরে অপরিবর্তিত বেতন: প্রতি ৫ বছর পর পর ন্যূনতম বেতন পুনর্নির্ধারণ করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিগত ১২ থেকে ১৯ বছর ধরে রাজ্য সরকার কোনো বেতন সংশোধন করেনি।
ন্যূনতম বেতন ২৬,০০০ টাকা: বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে অদক্ষ, চুক্তিভিত্তিক ও স্কিম কর্মীদের জন্য প্রতি মাসে অন্তত ২৬,০০০ টাকা বেতনের দাবি জানানো হয়েছে।
স্থায়ীকরণ ও স্কেল প্রদান: অঙ্গনওয়াড়ি, আশা (ASHA), মিড-ডে মিল ও বিদ্যালয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মতো স্কিম কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ কর্মচারীর মর্যাদা দান এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ৪ লাখ আউটসোর্সিং কর্মীকে স্থায়ী করার দাবি তোলা হয়েছে।
এনটিআর কালেক্টরেটে প্রতিবাদের চিত্র
সোশ্যাল মিডিয়ায় সিআইটিইউ অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য কমিটির আপডেট অনুযায়ী, ৩০ জুলাই সকাল থেকেই বিজয়ওয়াড়ার এনটিআর কালেক্টরেট চত্বরে ব্যাপক শ্রমিক সমাবেশ ঘটে:
ব্যাপক উপস্থিতি: লালা সিআইটিইউ পতাকা, কাস্তে-হাতুড়ি চিহ্নিত পোশাক ও লাল স্কার্ফ পরিহিত শত শত পুরুষ ও মহিলা শ্রমিক সেখানে উপস্থিত হন।
শান্তিপূর্ণ ধর্ণা: কালেক্টরেটের মূল ফটকের বাইরে সবুজ রঙের ত্রিপল ও ম্যাট বিছিয়ে শ্রমিকেরা দীর্ঘক্ষণ অবস্থান ধর্ণায় বসেন।
ব্যানার ও ব্যারিকেড: তেলুগু ভাষায় লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে শ্রমিক শোষণের বিরুদ্ধে ও ন্যূনতম বেতনের পক্ষে স্লোগান লেখা ছিল।
প্রতিবাদ সভায় সিআইটিইউ-এর রাজ্য সভাপতি সি.এইচ. নরসিংহ রাও এবং সাধারণ সম্পাদক এ.ভি. নাগেশ্বর রাও উপস্থিত থেকে সমাবেশ পরিচালনা করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠান।
এক নজরে মূল তথ্যসূচি
| বিষয় | বিবরণ |
| আয়োজন | সিআইটিইউ অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য কমিটি (CITU AP State Committee) |
| তারিখ | ৩০ – ৩১ জুলাই, ২০২৬ |
| প্রধান কেন্দ্র | এনটিআর জেলা কালেক্টরেট, বিজয়ওয়াড়া (সহ বিশাখাপত্তনম, শ্রীকাকুলাম ও রাজামহেন্দ্রভরম) |
| মূল দাবি | ৭১টি তপশিলি শিল্পে বেতন বৃদ্ধি ও ন্যূনতম ₹২৬,০০০ মাসিক বেতন প্রদান |
| অংশগ্রহণকারী | স্কিম কর্মী (আশা, অঙ্গনওয়াড়ি), মিউনিসিপ্যালিটি, বিশ্ববিদ্যালয় ও আউটসোর্সিং কর্মী |
শ্রমিক নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি
সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় সিআইটিইউ নেতারা অভিযোগ করেন যে, রাজ্য সরকার উন্নয়নের নামে শুধুমাত্র বৃহৎ শিল্পপতিদের ছাড় দিতে ব্যস্ত, কিন্তু যে শ্রমিক শ্রেণী উৎপাদন চালিকাশক্তি তাদের মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণ উপেক্ষিত।

