মেদিনীপুর, ১ আগস্ট ২০২৬:
নির্বাচন কমিশনের পরিচালিত বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া—স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR)—কে কেন্দ্র করে আমজনতার ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠার চিত্র ধরা পড়ল মেদিনীপুর শহরে। শনিবার শহরের বিদ্যাসাগর হলে আয়োজিত একটি জেলা কনভেনশনে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
বামপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া লয়ার্স ইউনিয়ন’ (AILU)-এর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। হলে আসনসংখ্যার চেয়ে উপস্থিতির হার এতই বেশি ছিল যে, বহু মানুষকে প্রেক্ষাগৃহের মেঝেতে এবং মঞ্চের চারপাশে বসেই আলোচনার বক্তব্য শুনতে হয়।
মূল বক্তব্য ও উপস্থিত ব্যক্তিত্ব
কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী শামীম আহমেদ বলেন, "ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে আইনি জটিলতার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, আবার অনেকের নাম দীর্ঘ দিন ধরে ট্রাইব্যুনাল কিংবা বিচারাধীন পর্যায়ে আটকে রয়েছে।"
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম)-এর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক বিজয় পাল। তিনিও নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভোটার হয়রানির তীব্র সমালোচনা করেন।
কী এই এসআইআর (SIR) বিতর্ক?
আগামী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে বেশ কয়েকটি রাজ্যে এই ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ বা বিশেষ ভোটার তালিকা পরিমার্জন ড্রাইভ চালু করে।
কমিশনের দাবি, ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করা, তথ্যের অসংগতি (logical discrepancies) দূর করা এবং ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের নথি যাচাই করে তালিকা পরিচ্ছন্ন করাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য।
তবে সমালোচক ও বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে গণহারে নোটিশ পাঠানো ও শুনানির নামে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার সাধারণ নাগরিকদের অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে, যার ফলে অনেক প্রকৃত নাগরিক ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।
আইনজীবীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বা জটিলতায় আটকে রয়েছে, তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ভোটাধিকার রক্ষায় এই আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।




