" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory পাটনায় বিজেপির অহংকারের শোচনীয় পতন! ৩০ বছরের 'অভেদ্য দুর্গ' ভেঙে বাঁকীপুরে প্রশান্ত কিশোরের ঐতিহাসিক জয় //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

পাটনায় বিজেপির অহংকারের শোচনীয় পতন! ৩০ বছরের 'অভেদ্য দুর্গ' ভেঙে বাঁকীপুরে প্রশান্ত কিশোরের ঐতিহাসিক জয়

 


বিশেষ প্রতিবেদন | (VIEWS NOW)

পাটনা, ৩ আগস্ট, ২০২৪:

বিজেপির বহুদিনের দম্ভ, অহংকার আর সাংগঠনিক আত্মতুষ্টিকে ধুলায় মিশিয়ে দিল বিহারের রাজনৈতিক ময়দান। পাটনার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিজেপির দীর্ঘ ৩০ বছরের 'অভেদ্য গড়' বলে পরিচিত বাঁকীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে ধরাশায়ী হলো পদ্মশিবির। নিজস্ব রাজনৈতিক দল 'জন সুরজ' গড়ে প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেই ঐতিহাসিক বিজয়ের পথে হাঁটলেন ভোটকুশলী থেকে রাজনীতিক হওয়া প্রশান্ত কিশোর।

ভোট গণনার ২৬তম রাউন্ডের শেষে প্রশান্ত কিশোর ৫৩,৫৬৬-র বেশি ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার সিনহার চেয়ে প্রায় ১৫,৮৬৪ ভোটে এগিয়ে যান। বিজেপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ক্ষমতাসীন দলের এমন শোচনীয় পরাজয় রাজ্য রাজনীতিতে এক প্রকাণ্ড ভূমিকম্পের সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে তেজস্বী যাদবের আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারী মাত্র ১১,৫১৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে তলিয়ে গিয়েছেন।

কেন ভাঙল পদ্মশিবিরের দম্ভ?

১৯৯৫ সাল থেকে পাটনা পশ্চিম (বর্তমান বাঁকীপুর) আসনটি ছিল বিজেপির একেবারে নিশ্চিত আসন। বিগত দুই দশক ধরে এই আসন পরিচালনা করেছেন নীতিশ নবীন ও তাঁর পরিবার। সম্প্রতি নীতিশ নবীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে আসীন হয়ে রাজ্যসভায় গেলে এই আসনটি খালি হয়। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব ধরে নিয়েছিল—"প্রার্থী যেই হোক, পদ্ম চিহ্নেই ভোট পড়বে।"

প্রচার চলাকালীন বিজেপির এক সিনিয়র নেতার বিতর্কিত মন্তব্য—"বিড়াল বা কুকুর দাঁড় করালেও বাঁকীপুরের মানুষ বিজেপিকেই ভোট দেবে"—রাজনৈতিকভাবে জন সুরজের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে। এই মন্তব্যকে বাঁকীপুরের সাধারণ মানুষের 'আত্মসম্মানে আঘাত' হিসেবে তুলে ধরে ঝড় তোলেন প্রশান্ত কিশোর। ফলে ব্যালট বাক্সে পদ্মপ্রার্থীকে বয়কট করে কঠোর জবাব দিয়েছে আমজনতা।

কম ভোটদান ও ক্যাডারদের ক্ষোভ

৩০ জুলাই মাত্র ৩৪.৩% ভোট পড়েছিল বাঁকীপুরে। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নিষ্ক্রিয়তা এবং স্থানীয় নেতাদের একাংশের চরম অসন্তোষের কারণেই বিজেপির ঐতিহ্যবাহী ভোটাররা ভোটকেন্দ্রমুখী হননি।

অন্যদিকে, দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে বিহারের গ্রামে-গঞ্জে ও শহরের অলিতে-গলিতে হেঁটে জন সুরজের ভিত্তি শক্ত করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। বেকারত্ব, শহরের অনুন্নত পরিকাঠামো এবং শাসকদলের দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে তৈরি তাঁর প্রচার তরুণ ও নাগরিক সমাজকে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে।

এএন কলেজের সামনে উৎসবের আবহে উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা

পাটনার এএন কলেজ গণনা কেন্দ্রের বাইরে এবং জন সুরজের সদর দফতরে তখন আবির খেলা আর বাজি ফাটানোর উৎসব চলছে। প্রশান্ত কিশোরের অনুগামীরা বলছেন, "এটাই বিহারের বদলের সূচনা। ধর্ম আর জাতপাতের রাজনীতি ভুলে বিহারের মানুষ এখন কাজ ও বিকল্প রাজনীতিকে বেছে নিয়েছে।"

বিজেপির এই পরাজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিল—ভোটের রাজনীতিতে জনগণকে হালকাভাবে নেওয়ার দিন শেষ। জাতীয় সভাপতির ঘরের মাটিতেই পরাজয়ের এই দাগ দিল্লির মোদী-শাহ নেতৃত্বের কাছে যে চরম অস্বস্তির, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies