বিশেষ প্রতিবেদন | (VIEWS NOW)
পাটনা, ৩ আগস্ট, ২০২৪:
বিজেপির বহুদিনের দম্ভ, অহংকার আর সাংগঠনিক আত্মতুষ্টিকে ধুলায় মিশিয়ে দিল বিহারের রাজনৈতিক ময়দান।
ভোট গণনার ২৬তম রাউন্ডের শেষে প্রশান্ত কিশোর ৫৩,৫৬৬-র বেশি ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার সিনহার চেয়ে প্রায় ১৫,৮৬৪ ভোটে এগিয়ে যান।
কেন ভাঙল পদ্মশিবিরের দম্ভ?
১৯৯৫ সাল থেকে পাটনা পশ্চিম (বর্তমান বাঁকীপুর) আসনটি ছিল বিজেপির একেবারে নিশ্চিত আসন। বিগত দুই দশক ধরে এই আসন পরিচালনা করেছেন নীতিশ নবীন ও তাঁর পরিবার। সম্প্রতি নীতিশ নবীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে আসীন হয়ে রাজ্যসভায় গেলে এই আসনটি খালি হয়।
প্রচার চলাকালীন বিজেপির এক সিনিয়র নেতার বিতর্কিত মন্তব্য—"বিড়াল বা কুকুর দাঁড় করালেও বাঁকীপুরের মানুষ বিজেপিকেই ভোট দেবে"—রাজনৈতিকভাবে জন সুরজের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে। এই মন্তব্যকে বাঁকীপুরের সাধারণ মানুষের 'আত্মসম্মানে আঘাত' হিসেবে তুলে ধরে ঝড় তোলেন প্রশান্ত কিশোর। ফলে ব্যালট বাক্সে পদ্মপ্রার্থীকে বয়কট করে কঠোর জবাব দিয়েছে আমজনতা।
কম ভোটদান ও ক্যাডারদের ক্ষোভ
৩০ জুলাই মাত্র ৩৪.৩% ভোট পড়েছিল বাঁকীপুরে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে বিহারের গ্রামে-গঞ্জে ও শহরের অলিতে-গলিতে হেঁটে জন সুরজের ভিত্তি শক্ত করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর।
এএন কলেজের সামনে উৎসবের আবহে উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা
পাটনার এএন কলেজ গণনা কেন্দ্রের বাইরে এবং জন সুরজের সদর দফতরে তখন আবির খেলা আর বাজি ফাটানোর উৎসব চলছে। প্রশান্ত কিশোরের অনুগামীরা বলছেন, "এটাই বিহারের বদলের সূচনা। ধর্ম আর জাতপাতের রাজনীতি ভুলে বিহারের মানুষ এখন কাজ ও বিকল্প রাজনীতিকে বেছে নিয়েছে।"
বিজেপির এই পরাজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিল—ভোটের রাজনীতিতে জনগণকে হালকাভাবে নেওয়ার দিন শেষ। জাতীয় সভাপতির ঘরের মাটিতেই পরাজয়ের এই দাগ দিল্লির মোদী-শাহ নেতৃত্বের কাছে যে চরম অস্বস্তির, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


