ভিউজ নাও স্পোর্টস ডেস্ক: দুর্গাপুরের স্থানীয় ফুটবল ময়দানে শেষ হলো 'শহীদ আশীষ জব্বার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬'-এর মেগা ফাইনাল। হিন্দুস্তান স্টিল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের পরিচালনা ও দুর্গাপুর হিরোজ ক্লাবের যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত এই হাই-ভোল্টেজ খেলায় আই এন দিশারী ক্লাব-কে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা নিজেদের নামে করেছে আমরা কজন বয়েজ ক্লাব।
প্রচণ্ড গতি ও শারীরিক শক্তিনির্ভর ফুটবলের বিপরীতে কৌশলগত শৃঙ্খলার প্রয়োগে ম্যাচটি কীভাবে নিষ্পত্তি হলো, তার একটি পূর্ণাঙ্গ টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ট্যাকটিক্যাল ও টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ (Tactical & Technical Breakdown)
ক. ডিফেন্সিভ শেপ ও গোলকিপিং ওয়াল (Defensive Shape & Shot Stopping)
- সন্দীপন দাসের দুর্ভেদ্য দেয়াল: ‘আমরা কজন বয়েজ ক্লাব’-এর ৩-পয়েন্ট জয়ের সবচেয়ে বড় কারিগর ছিলেন তাঁদের গোলরক্ষক সন্দীপন দাস (জার্সি নং ৩১)। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে আই এন দিশারী সমতা ফেরাতে একের পর এক বিপজ্জনক আক্রমণ শানালেও, বক্সে তাঁর অসাধারণ পজিশনিং ও রিফ্লেক্স সেভ দলকে গোল হজম করতে দেয়নি। কৌশলগত দিক থেকে সন্দীপনের হাই-বল ক্লিয়ারেন্স এবং নিখুঁত শট-স্টপিং পারফরম্যান্স তাঁকে ফাইনালের 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ' খেতাব এনে দেয়।
- হাই-প্রেস বনাম ডিসিপ্লিনড ডিফেন্স: আই এন দিশারী ক্লাব শুরু থেকেই হাই-প্রেসিং ফুটবল খেললেও ‘আমরা কজন বয়েজ ক্লাব’ কাউন্টার-অ্যাটাকিং কৌশলে মনোযোগ দেয়। আই এন দিশারীর ৪ নম্বর জার্সির ডিফেন্ডার হেমাপদ হাঁসদা দুর্দান্ত ম্যান-মার্কিং এবং ট্যাকলিংয়ের পরিচয় দেন, যা টুর্নামেন্টের ‘সেরা ডিফেন্ডার’ হিসেবে তাঁর নাম নিশ্চিত করে।
খ. মাঝমাঠের ট্রানজিশন ও অ্যাটাকিং ডাইনামিকস (Midfield Transition & Attack Line)
- অনিল সিংয়ের প্লে-মেকিং: হেরে গেলেও আই এন দিশারীর ৭ নম্বর জার্সির তারকা অনিল সিং পুরো ম্যাচে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। ডিফেন্স থেকে অ্যাটাকে বল সাপ্লাই, স্পেস তৈরি এবং দলের আক্রমণের গতি নিয়ন্ত্রণে তিনি ছিলেন অতুলনীয়, যা তাঁকে টুর্নামেন্টের 'সেরা খেলোয়াড়' (Player of the Tournament) নির্বাচিত করে।
- ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং ও অ্যাটাকিং ডেপথ: ‘আমরা কজন বয়েজ ক্লাব’-এর আক্রমণে বৈচিত্র্য ছিল স্পষ্ট। দলের ৮ নম্বর জার্সি পরিহিত সঞ্জয় কিসকু (সেরা স্ট্রাইকার) এবং ১৫ নম্বর জার্সির অভিজিৎ টুডু (সর্বোচ্চ গোলদাতা) বিপক্ষের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখেন। এর ফলে তৈরি হওয়া স্পেসকে কাজে লাগিয়ে ৩ নম্বর জার্সির ফরোয়ার্ড সমীর সরেন বক্সে সঠিক পজিশনিং নিয়ে জয়সূচক ১-০ গোলের ফিনিশিংটি সম্পন্ন করেন।
২. টুর্নামেন্টের সকল ব্যক্তিগত পুরষ্কারের তালিকা
ফাইনাল ম্যাচ শেষে টেকনিক্যাল পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্বাচিত টুর্নামেন্টের সেরা তারকাদের তালিকা:
| পুরষ্কারের বিভাগ | সেরা খেলোয়াড় | জার্সি নং | দল |
| ম্যান অব দ্য ম্যাচ (ফাইনাল) | সন্দীপন দাস (গোলরক্ষক) | ৩১ | আমরা কজন বয়েজ ক্লাব |
| টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় | অনিল সিং | ৭ | আই এন দিশারী সংঘ |
| সর্বোচ্চ গোলদাতা | অভিজিৎ টুডু | ১৫ | আমরা কজন বয়েজ ক্লাব |
| সেরা স্ট্রাইকার | সঞ্জয় কিসকু | ৮ | আমরা কজন বয়েজ ক্লাব |
| সেরা ডিফেন্ডার | হেমাপদ হাঁসদা | ৪ | আই এন দিশারী সংঘ |
| সেরা হাফ | অবিরাজ রাম | ২১ | গ্যামনব্রিজ ফ্রেন্ডস ক্লাব |
| সেরা গোলরক্ষক | বুবাই গোপ | ৩১ | শ্যাম মেটালিক্স ফুটবল একাডেমি |
৩. ম্যাচ পরিচালনা ও রেফারিং
ম্যাচটিতে মাঠের নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন চার অভিজ্ঞ রেফারি:
- প্রধান রেফারি: শ্রী ওম প্রকাশ সিং
- সহকারী রেফারি: শ্রী বরুণ দাস ও শ্রী তাপস কেশ
- জাতীয় রেফারি: শ্রী প্রদীপ কুমার ব্যানার্জি
৪. অতিথিবৃন্দ, সাংগঠনিক কমিটি ও সম্মাননা
ফাইনাল খেলার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা:
- প্রধান অতিথি: দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার (DSP) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (মেটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) শ্রী ভূপিন্দর সিং পোপলি।
- বিশেষ অতিথিবৃন্দ: বিশিষ্ট সমাজসেবী সুদেব রায়, প্রবীণ নেতা সুখময় বোস, দুর্গাপুর মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শ্রী তাপস সরকার এবং দুর্গাপুর রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্রী আশীষ মন্ডল।
- টুর্নামেন্ট কমিটি: সভাপতি বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত চ্যাটার্জী, সহ-সভাপতি ললিতমোহন মিশ্র এবং যুগ্ম সম্পাদক নবেন্দু সরকার।
জীবন কীর্তি সম্মান ও স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট সংবর্ধনা
- জীবন কীর্তি সম্মান: দুর্গাপুরের ফুটবলের কিংবদন্তি খেলোয়াড় শ্রী জীবন কুন্ডু এবং মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সংগঠক শ্রী শঙ্কর রায়-কে ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য 'জীবন কীর্তি সম্মান'-এ ভূষিত করা হয়।
- জাতীয় অ্যাথলিটদের সম্মাননা: জাতীয় স্তরে স্বর্ণপদক অর্জন করে অঞ্চলের মুখ উজ্জ্বল করায় চার তরুণ অ্যাথলিট— শানুর রায়, শ্রেয়া নায়েক, মৌসুমী মান্ডি এবং সৌম্যজিৎ মণ্ডল-কে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।



























