বিশেষ সংবাদদাতা, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের করিশুন্ডা গ্রামে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সরব হওয়ার জেরে সিজেপি (CJP) কর্মী আবদুল হাফিজ ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। গত ১৩ আগস্ট সংঘটিত এই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে মৃত্যু হয় হাফিজের বাবা শেখ মোহাম্মদ রফিকের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে করিশুন্ডা গ্রামে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং ঘটনার প্রতিবাদে করিশুন্ডা গ্রামে উপস্থিত হন বামপন্থী ছাত্র, যুব ও বিভিন্ন গণআন্দোলনের রাজ্য নেতৃত্ব। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় দুষ্কৃতীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান যুবনেতা সৃজন ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য রাজ্য নেতৃত্ব।
ঘটনার বিবরণ ও নেতৃত্বের প্রধান দাবিসমূহ:
- শিক্ষকের ভূমিকা তদন্তের দাবি: ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাশীনাথ দে-র ভূমিকা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর দুষ্কৃতীদের উসকানি দেওয়া হয়েছিল।
- ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান ও বিকল্প প্রস্তাব: নিহত ব্যক্তির পরিবার সরকারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পরিবার ও নেতৃত্বের দাবি, ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে একটি আধুনিক সরকারি বিদ্যালয় নির্মাণ করা হোক, যেখানে সকল সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে মানসম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
- পুলিশি ভূমিকার পর্যালোচনা: ঘটনার সময় স্থানীয় থানা ও কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি তোলা হয়েছে।
- বাঁকুড়া জেলা শাসক অফিস ঘেরাওয়ের আলটিমেটাম: আগামী ১০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের বিচার ও সমস্ত দাবি আদায় না হলে বাঁকুড়া জেলা শাসকের (DM) দপ্তরের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আন্দোলনকারী নেতৃত্ব।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




