তালাসাড়ি, পালঘর: মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার তালাসাড়িতে অবস্থিত কমরেড গোদাবরী শমরাও পারুলেকর ভবনে গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI)-এর ঠানে-পালঘর জেলা কমিটির উদ্যোগে এক ঐতিহাসিক ছাত্র-যুব বিজয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 'আজাদি সপ্তাহ'-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সমাবেশে জুনিয়র ও সিনিয়র কলেজের দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে সংঘটিত সাম্প্রতিক ছাত্র-যুব আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার অধিকার ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক আন্দোলনের দিকনির্দেশ নির্ধারণ করাই ছিল এই সমাবেশের মূল লক্ষ্য।
১. সাংগঠনিক বিস্তার ও প্রান্তিক ছাত্রসমাজের অংশগ্রহণ
সমাবেশটিতে তালাসাড়ি ও সংলগ্ন অঞ্চলের বিভিন্ন কলেজ থেকে বিপুলসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। মূলত উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত পালঘর জেলায় তরুণ প্রজন্মের এমন ব্যপক অংশগ্রহণ কেবল সংগঠনের ভিত্তিকেই প্রদর্শন করে না, বরং গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যমান সামাজিক-অর্থনৈতিক অসন্তোষের গভীরতা নির্দেশ করে। সমাবেশটির সভাপতিত্ব করেন এসএফআই জেলা সভাপতি ভাস্কর মহাসে এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা সম্পাদক বীরেন্দ্র ডুমাদা।
২. শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য ও কেন্দ্র সরকারের নীতির সমালোচনা
সমাবেশে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএফআই-এর জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক তথা জেএনইউএসইউ (JNUSU)-এর প্রাক্তন সভাপতি ঐশী ঘোষ। এ ছাড়া সর্বভারতীয় গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি (AIDWA)-র জাতীয় সহ-সভাপতি মরিয়ম ধাওয়ালে ও জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক প্রাচী হাতিওয়ালেকর এবং নিখিল ভারত কিষাণ সভা (AIKS)-র জাতীয় সভাপতি ড. অশোক ধাওয়ালেসহ অন্যান্য বিশিষ্ট নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
ঐশী ঘোষ তাঁর বক্তব্যে যন্তর মন্তরের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক দমনপীড়নের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার, শিক্ষার সার্বজনীনতা রক্ষা এবং বেকারত্ব দূরীকরণের দাবিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও সুসংগঠিত সর্বভারতীয় আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
৩. রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য
- সংকট কেন্দ্রিক আন্দোলন: বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বেসরকারীকরণ, প্রবেশিকা পরীক্ষার অনিয়ম এবং কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতা কেবল নগরকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; তালাসাড়ির সমাবেশ প্রমাণ করে যে এই সংকট গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকাতেও একইভাবে গভীর।
- গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সচলতা: কেন্দ্রীয় নীতির প্রতিবাদে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে এই সমাবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
- কৃষক-ছাত্র-নারী শক্তির সমন্বয়: এআইকেএস, এআইডিডব্লিউএ এবং এসএফআই নেতাদের যৌথ উপস্থিতি গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষক, নারী ও যুবসমাজের ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলনের কৌশলগত ইঙ্গিত বহন করে।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন
তালাসাড়ির এই সমাবেশ মহারাষ্ট্রের ছাত্র-যুব আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন। রাজপথের আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার মাধ্যমে এটি ভবিষ্যতে রাজ্য তথা জাতীয় ছাত্র রাজনীতির মূল গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।





