ভিউজ নাও ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক গোলমাল ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের পাশে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে। ছবিতে ও ঘটনাস্থলে বিধায়কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলয়ে যে তরুণকে দেখা গিয়েছে, তাঁর নাম নিখিল দাস। তিনি ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও অপহরণের অভিযোগে পুলিশি প্রেফতারে অভিযুক্ত হয়েছিলেন।
ঐতিহাসিক নথি ও তৎকালের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস বিভাগের এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার সময় তাঁকে অপহরণ করে বয়েজ হস্টেলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে তৎকালীন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নিখিল দাস এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র সোনু কুমারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পুলিশের তদন্ত, অভিযুক্তদের বয়ানের অসঙ্গতি ও পার্শ্বপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাঁদের কাস্টডিতে পাঠায়।
দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক গতিবিধিতে ফের সেই নিখিল দাসের সক্রিয় উপস্থিতি প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে:
- ক্যাম্পাসে দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি: ২০১৪ সালে স্নাতক স্তরের তৃতীয় বর্ষে পাঠরত এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি এক দশক পেরিয়েও কোন ক্ষমতায় বা যুক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন?
- জনপ্রতিনিধি ও দলীয় অবস্থান: নারী সুরক্ষার বার্তা দেওয়া একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি কীভাবে একজন চিহ্নিত যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাশে নিয়ে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন?
- শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা: সাজাপ্রাপ্ত বা জামিনে মুক্ত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে অবাধ যাতায়াত কি সাধারণ শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রী সুরক্ষাকে বড়সড় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে না?
এই বিষয়ে বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় কিংবা বিজেপি নেতৃত্বের কোনো স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও লালবাজারের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছে ওয়াকিবহাল মহল।


