ভিউজ নাউ ডেস্ক: ব্যস্ত শহরের কোলাহল, নিত্যদিনের উদ্বেগ আর নাগরিক যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে মানুষের মন মাঝেমধ্যেই এমন এক নির্জন কোণ খোঁজে, যেখানে দাঁড়ালে মুহূর্তেই হালকা হয়ে যায় হৃদয়ের সব ভার। জীবনের সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তির খোঁজে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত রাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন জনপ্রিয় ট্রাভেল প্রণেতা ও মোটো-ব্লগার দীপ রঞ্জন শচান। তাঁর চলমান 'নর্থ ইস্ট রাইড ২০২৬'-এর ১০ম পর্বে তিনি দর্শককে নিয়ে গেছেন অরুণাচল প্রদেশের পাহাড় ও মেঘে ঘেরা এক স্বপ্নের উপত্যকা—জিরো ভ্যালিতে (Ziro Valley)।
প্রতিকূল প্রকৃতি ও পাহাড়ি বাঁকের কঠিন পরীক্ষা
অরুণাচলের সুন্দর শহর দিরাং থেকে যাত্রা শুরু করে জিরো ভ্যালিতে পৌঁছানো মোটেও সহজ ছিল না। ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এবং প্রায় ৮ ঘণ্টার এই কঠিন যাত্রাপথে প্রতি মুহূর্তে রূপ বদলেছে পাহাড়ি আবহাওয়া।
- কুয়াশা ও বৃষ্টির খেলা: পাহাড়ি গিরিপথ ও সুড়ঙ্গ অতিক্রম করার সময় নেমে আসে ঘন কুয়াশার চাদর। চোখের সামনে দৃষ্টিসীমা প্রায় শূন্যে নেমে আসায় বাইক চালানো হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
- সড়কে সেনাবাহিনীর উদ্ধার অভিযান: পিচ্ছিল পাহাড়ি রাস্তায় একটি যাত্রীবাহী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় গভীর খাদে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। ভাগ্যক্রমে খাদের মুখে থাকা গাছের ঝোপঝাড় গাড়িটিকে আটকে দেয়। পরবর্তীতে ভারতীয় সেনাসদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিতদের নিরাপদে উদ্ধার করেন।
- ইটানগরে ক্ষণিক বিরতি: দীর্ঘ ভ্রমণের মাঝে সরঞ্জাম সংগ্রহ ও বাইকের কারিগরি সমস্যা মেটাতে রাজ্যের রাজধানী ইটানগরে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেন দীপ।
জিরো ভ্যালির মুগ্ধতায় হৃদয়জুড়ানো অভিজ্ঞতা
ইটানগরের ভাঙাচোরা অফ-রোড অতিক্রম করে যখন বাইকের চাকা জিরো উপত্যকায় প্রবেশ করে, তখন নিমেষেই দূর হয়ে যায় সব ক্লান্তি। সুউচ্চ পাহাড়ে ঘেরা এই শান্ত উপত্যকা যেন রূপকথার কোনো ক্যানভাস।
১. সুবিশাল ধান খেত ও বুনো ফুল: জিরো ভ্যালির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অপরূপ ধান খেত (Paddy Fields)। দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা সবুজ ধান খেতের মধ্য দিয়ে চলে গেছে সংকীর্ণ মেঠো পথ, যার দুই পাশে ফুটে রয়েছে নাম না জানা নানা বুনো ফুল।
২. নিস্তব্ধ সি লেক (See Lake): মূল শহরের কোলাহল থেকে দূরে অবস্থিত 'সি লেক' পর্যটকদের মন শান্ত করার এক অপূর্ব স্থান। হ্রদের জল আর চারপাশের শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি জাগায়।
৩. পামু ইলাং ভিউ পয়েন্ট (Pamu Yelang Viewpoint): প্রায় ১০ মিনিটের একটি ছোট্ট ট্রেইল ট্রেক করে যখন পামু ইলাং পাহাড়ি চূড়ায় পৌঁছানো যায়, সেখান থেকে পুরো জিরো উপত্যকার এক প্যানোরামিক দৃশ্য উন্মোচিত হয়। ওপর থেকে পুরো ভ্যালি ও স্থানীয় রানওয়েটি যেন কোনো ক্ষুদ্র প্রদেয় মানচিত্রের মতো দেখায়।
ভ্রমণের শেষাংশে আরেক জনপ্রিয় বাইকার অমিত (অ্যালং উইথ অমিত)-এর সঙ্গে দেখা হয় এবং তাঁরা দুজনে মিলে জিরো ভ্যালির শেষ বিকেলের রূপ উপভোগ করেন। জিরোর সৌন্দর্যকে হৃদয়ে ধারণ করে আগামী পর্বে ভারতের শেষ সীমান্ত 'মেচুকা'র দিকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে শেষ হয় দীপ রঞ্জনের এই আবেগঘন পর্বটি।


