প্যারিস — ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার বিপুল ব্যয় এবং শিক্ষা ও জনসেবা খাতে সরকারের বাজেট ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে আগামী রোববার ফরাসি রাজধানী প্যারিসসহ পুরো দেশজুড়ে নতুন করে বৃহৎ বিক্ষোভ ও গণসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় ট্রেড ইউনিয়ন, শিক্ষার্থী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিক অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলো সম্মিলিতভাবে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
সংগঠকদের ধারণা, প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ এবং তুলুজের মতো প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে তাদের দাবি তুলে ধরবেন। টানা কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক অসন্তোষের পর আগামী রোববারের এই কর্মসূচি ফ্রান্সে চলমান সামাজিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো
বিক্ষোভকারীরা সরকারের বেশ কিছু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা করছেন। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং জ্বালানি খরচ কমাতে সরকারের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ন্যূনতম বেতন বাড়ানো।
- শিক্ষা ও জনসেবা খাতের সংস্কার: সরকারি বিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত সংকট নিরসন।
- শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষা: সম্প্রতি কার্যকর হওয়া পেনসন নীতি ও শ্রম আইনের ওপর পুনর্বিবেচনা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
প্রশাসনের প্রস্তুতি ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রোববারের সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো ফ্রান্সজুড়ে বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্যারিসের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সহিংস ঘটনা রোধে তারা শূন্য-সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি বজায় রাখবে।
একই সাথে আগামী রোববার বিভিন্ন শহরে যান চলাচল ও গণপরিবহন ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। অনেক এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মেট্রোরেল রুট সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভকারী দলগুলো কর্মসূচিসমূহ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার ওপর জোর দিলেও, সরকারের নীতির ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে আগামী রোববারের এই আন্দোলন অত্যন্ত বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


