নয়াদিল্লি — “সত্য কখনো মরে না” — এই চিরায়ত চেতনাকে সামনে রেখে নয়াদিল্লির হরকিষেন সিং সুরজিৎ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘দ্বিতীয় সীতারাম ইয়েচুরি স্মারক বক্তৃতা’। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস এবং ইতিহাস লিখনধারার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন দেশের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক রোমিলা থাপার। তাঁর আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল — “ইতিহাস লিখনধারা এবং প্রাচীন ভারতের ইতিহাস” (Historiography and Early Indian History)।
সুরজিৎ ভবনের মূল মিলনায়তনটি আজ শুরু থেকেই ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, গবেষক, প্রবীণ ও নবীন শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক কর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত হন। বসার জায়গা না পেয়ে বহু মানুষকে গ্যালারি এবং পথের ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে গভীর আগ্রহের সঙ্গে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই বক্তব্য শুনতে দেখা যায়।
বক্তব্যের মূল ভিত্তি ও ইতিহাস লিখনধারা
অধ্যাপক থাপার তাঁর দীর্ঘ ও সুচিন্তিত বক্তব্যে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসচর্চার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ইতিহাসের অপব্যাখ্যা রুখতে তিনি বৈজ্ঞানিক ইতিহাস লিখনধারার ওপর জোর দেন।
- তথ্যপ্রমাণ বনাম রাজনৈতিক মিথ: তিনি স্পষ্ট করে জানান, রূপকথা বা পৌরাণিক কাহিনী আর বস্তুবাদী ইতিহাস এক নয়। ইতিহাসচর্চাকে সর্বদা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ, সাহিত্যিক উপাদান এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নিতে হবে।
- বহুত্ববাদী প্রাচীন ভারত: প্রাচীন ভারতের সামাজিক ও সংস্কৃতি ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। একক কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক আদর্শ দিয়ে সেই জটিল সামাজিক কাঠামোকে ব্যাখ্যা করা ইতিহাসকে বিকৃত করার শামিল।
- ঐতিহাসিক চেতনার দায়বদ্ধতা: তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময় প্রায়শই অতীতকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসবিদদের কাজ হলো সমস্ত রাজনৈতিক বা রাজনৈতিক-আদর্শগত চাপ উপেক্ষা করে সত্য তথ্যকে জনগণের সামনে তুলে ধরা।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও গণসংগঠন
প্রয়াত বামপন্থী নেতা, প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও চিত্রপ্রজ্ঞ রাজনীতিক সীতারাম ইয়েচুরির বৈচারিক ঐতিহ্যকে স্মরণ করতে এই কর্মসূচিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী ও বামপন্থী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
| নাম | পরিচয় / দায়িত্ব |
| এম এ বেবি | সাধারণ সম্পাদক, সিপিআই(এম) |
| অধ্যাপক সি পি চন্দ্রশেখর | বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ |
| সীমা চিশতি | প্রবীণ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট লেখিকা |
এছাড়াও সিপিআই(এম), সিপিআই সহ অন্যান্য বামপন্থী দল, ট্রেড ইউনিয়ন এবং কৃষক-যুব-ছাত্র গণসংগঠনের প্রবীণ ও নবীন নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সমর্থকরা এই স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সংহতি জানান। সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাস চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করা হয়।




