নয়াদিল্লি, ৬ অক্টোবর ২০২৬: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে এক প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোটের সাংসদরা। বিরোধী দলগুলির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযানের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই বিক্ষোভকে ঘিরে গোটা সংসদ ভবন এবং নির্বাচন কমিশন কার্যালয় চত্বরে তীব্র নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ব্যারিকেড গড়ে তোলা হয়। কনট প্লেস, অশোক রোড এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নয়াদিল্লি জেলায় ৩,০০০-এরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়।
প্রতিবাদ মিছিলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে মিছিলে পা মেলান কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা, এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে সহ বিরোধীদের একাধিক হেভিওয়েট প্রতিনিধি। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড এবং তাঁরা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান তোলেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকের পরেই এই অভিযানের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বিরোধী দলগুলির মূল অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) নামে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে এবং খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে যে দ্বন্দ তৈরি হয়েছে এবং দুই নির্বাচন কমিশনার যেখানে বারবার আপত্তি তুলেছেন—তাকেও সামনে এনেছেন বিরোধীরা।
তবে এই যৌথ কর্মসূচি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে আম আদমি পার্টি (AAP) এবং ডিএমকে (DMK)। আপ-এর তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা স্বতন্ত্রভাবে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় নীতি আয়োগের ভবনের ঠিক সামনে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও নিরাপত্তারক্ষীরা মিছিলটিকে আটকে দেয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সিইসি-র ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন জোরদার করছে বিরোধী শিবির। অনেক নেতাই পুরো ঘটনার সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে স্বাধীন তদন্ত এবং ইভিএম-এর বদলে পুনরায় ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছেন। যদিও বিরোধীদের এই তাজা বিক্ষোভ ও দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।


