ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (ITBP) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুরের বক্তব্য সামনে আসার পর অরুণাচল সীমান্তে ভারত-চীন সংঘাত নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে মূল বিরোধী দল কংগ্রেস।
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব—সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং দলের প্রধান সমন্বয়ক জয়রাম রমেশ—আইটিবিপি প্রধানের স্বীকারোক্তিকে ভিত্তি করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জবাব দাবি করেছেন।
১. “চীনকে ক্লিন চিট দেওয়া বন্ধ করে সত্য প্রকাশ করুন”: মল্লিকার্জুন খাড়গে
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এক এক্স (টুইটার) বার্তায় আইটিবিপি প্রধানের বক্তব্যকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” (deeply alarming) বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ডোকলাম ও গলওয়ানের পর এখন কি অরুণাচলে আরেকটি বড় সংঘর্ষ দানা বাঁধছে?
তিনি কেন্দ্র সরকারের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয় সামনে এনে জবাব চেয়েছেন:
- সীমান্তে টহল ও ভূখণ্ড রক্ষা: অরুণাচল প্রদেশের টাকসিং (Taksing) অঞ্চলের কাছে চীনা অনুপ্রবেশ এবং ওয়াচা-দামাইতে (Wacha-Damai) কোর কমান্ডার পর্যায়ের আলোচনার ৪৭ দিন পরেও কেন সীমান্ত সংঘাত বজায় রয়েছে?
ভারতীয় সেনাদের কি পূর্বের টহলদারির অধিকারে কোনো আপস করতে হয়েছে? - অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ বনাম চীনা নীতি: একদিকে সীমান্তে সেনা সংঘাত চলছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার কীভাবে চীনা পণ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে চলেছে এবং চীনা বিনিয়োগ ও পিএলআই (PLI) সুবিধার ক্ষেত্রে নমনীয় নীতি গ্রহণ করছে? 'মেক ইন ইন্ডিয়া' কি কার্যত 'ইম্পোর্ট ফ্রম চায়না'-য় পরিণত হয়েছে?
- কূটনৈতিক অকার্যকারিতা: মোদী ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে ২৩ বারের বেশি বৈঠক এবং ডোভাল-স্তরের আলোচনা সত্ত্বেও ২০২০ সালের মে মাসের পূর্বের টহলের অধিকার কি পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়েছে? খাড়গে কটাক্ষ করে বলেন, “জাতীয় সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন দায়বদ্ধতা, কেবল আলিঙ্গনের কূটনীতি (Hugplomacy) বা ফটোসেশন নয়।”
২. “সরকারের নীরবতা বধির করে দেওয়ার মতো”: জয়রাম রমেশ ও রাহুল গান্ধী
কংগ্রেসের যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, অরুণাচল সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকার দীর্ঘদিন ধরে এক “বধির করে দেওয়া নীরবতা” বজায় রেখেছে।
- তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অরুণাচল সীমান্তে চীনা আগ্রাসন এবং ভারতীয় সেনাদের টহলে বাধার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন।
- অথচ সরকার বারবার দেশবাসীকে অন্ধকারে রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে চালানোর চেষ্টা করেছে। আইটিবিপি মহাপরিচালকের স্পষ্ট বক্তব্য সরকারের সেই দাবিকেই নস্যাৎ করে দিয়েছে।
৩. সরকারের কাছে কংগ্রেসের মূল দাবিগুলো:
১. সংসদে বিষয়টির স্পষ্টীকরণ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অবিলম্বে সংসদ এবং সমগ্র দেশকে সীমান্তে চীনের বর্তমান প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে পরিষ্কার তথ্য দিতে হবে।
২. স্বচ্ছ সীমান্ত তথ্য প্রকাশ: কোনো এলাকা চীনের নিয়ন্ত্রণে গেছে কি না কিংবা সেনার টহলের এলাকা সংকুচিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।
৩. চীন নীতি পুনর্মূল্যায়ন: সীমান্ত আগ্রাসন অব্যাহত থাকা অবস্থায় চীনকে কোনো প্রকার কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক ছাড় দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
বিজেপি ও সরকারের পাল্টা জবাব
কংগ্রেসের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে বিরোধী দল জাতীয় নিরাপত্তা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে রাজনীতি করছে। সরকার জানিয়েছে, ভারতের এক ইঞ্চি জমি রক্ষা করতেও সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত এবং সীমান্তে অত্যাধুনিক ড্রোন ও অবকাঠামো গঠনের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।


