নয়াদিল্লি:
ডেলয়েটের (Deloitte) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭.১% থেকে ৭.৩% হতে পারে। তবে পরবর্তী অর্থবছরে তা কিছুটা কমে ৬.৬% থেকে ৭%-এ নামতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) সর্বশেষ 'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক'-এ ভারতের বৃদ্ধির বৈষম্য, নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকির কথা তুলে ধরে সরকারের রাজকোষীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে, কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ের বণ্টনে বড় পদক্ষেপ দেখা গেছে। প্রকাশিত ২০২৬-২৭ কেন্দ্রীয় বাজেটের তথ্য অনুসারে, কেন্দ্র সরকার রাজ্যগুলোকে মোট ২৬,২০,৭৬৯ কোটি টাকা হস্তান্তর করবে, যা গত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত অনুমানের চেয়ে ১২.২% বেশি। এর মধ্যে কেবল কর বণ্টন বাবদ রাজ্যগুলো পাবে ১৫,২৬,২৫৫ কোটি টাকা। অর্থ কমিশনের সুপারিশ মেনে কেন্দ্রীয় কর রাজস্বের ৪১% রাজ্যগুলোর মধ্যে বণ্টন (Vertical Share) করার সিদ্ধান্ত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আর্থিক নীতির ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত অক্টোবরের পর্যালোচনায় রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI) তার মূল সুদের হার বাড়িয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের হার বা পরিমাণ এখনও নিশ্চিত করা হয়নি এবং গ্রাহকদের আরবিআই-এর অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির ওপর নজর রাখতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
ভারতের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশকে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক একটি নতুন পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক ঘোষণা করেছে। তবে, ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক লাভ, ঋণ খেলাপি বা আমানতের সুদের হার সম্পর্কিত এবং রাজ্যওয়ারী নির্দিষ্ট তহবিল বরাদ্দের কোনো বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। হালনাগাদ তথ্যের জন্য আরবিআই, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংসদীয় বিবরণী দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব
- বৃদ্ধির গতি হ্রাস: অর্থনীতির গতি কমে ৬.৬% থেকে ৭%-এ নামলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি ব্যাহত হতে পারে এবং আয়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
- ঋণের খরচ বৃদ্ধি: আরবিআই সুদের হার বাড়িয়ে থাকলে হোম লোন, কার লোন ও ব্যবসা ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক বিনিয়োগ ও খরচ কমিয়ে দিতে পারে।
- মূল্যস্ফীতির চাপ: নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমবে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে।
- রাজকোষীয় সীমাবদ্ধতা: আইএমএফ-এর সতর্কতা অনুযায়ী, রাজ্যগুলোকে বড় অঙ্কের অনুদান ও করের অংশ দেওয়ার পর কেন্দ্রের রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হলে সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বা কর ছাড়ে সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
- অসম উন্নয়ন: রাজ্যভিত্তিক তহবিলের সুষম বণ্টন না হলে বা বিভিন্ন অঞ্চল ও খাতের মধ্যে বৃদ্ধির বৈষম্য বাড়লে কিছু রাজ্য ও শিল্প খাত পিছিয়ে পড়তে পারে।


