৭০ থেকে ৯০ দশক দুর্গাপুরে শিল্পের জোয়ার , কর্মসংস্থান এর নিরিখে অন্যান্য জেলার শ্রমিকদের প্রথম পছন্দ ছিল দুর্গাপুর।ধীরে ধীরে শিল্পের বিকাশ ভাবনা কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনীতির ধারাপাতে অনুপস্থিতির জেরে শিল্প ধ্বংস হয়েছে এবং অনেকটা হারিয়েছে বিশ্বকর্মা পুজো নিয়ে উন্মাদনা।
দুর্গাপুরে একসময় যেমন রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্পের অবস্থান ছিল ঠিক পাল্লা দিয়ে বেসরকারি উদ্যোগ ছিল চোখে পড়ার মতন।একদিকে এম এ এম সি , সেইল আরেকদিকে এ বি বি এর মতন বহুজাতিক সংস্থার উপস্থিতি।পুজোর দিন গুলিতে কারখানার গেটে ছিল উৎসবের মেজাজ।শ্রমিক মহল্লায় ছিল সাজ সাজ রব।স্থানীয় বাজারে প্রচুর পসার সাজিয়ে বসা।দুর্গাপুর ইস্পাত অঞ্চলে এই পুজো উপলক্ষে মেলার আয়োজন ।পরিষ্কার ভাবে বলা যেতে পারতো দুর্গাপুজোর আগেই বাঙালির উৎসবের সূচনা দুর্গাপুরে।বিশ্বকর্মা পুজো তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতো বোনাস নিয়ে , শ্রমিকদের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত পরিবারের জন্য নতুন জামা কেনার পরিকল্পনা।
বর্তমানে এ যেন নস্টালজিয়া স্মৃতি এম এ এম সি এর ভগ্নপ্রায় কারখানার উপস্থিতি , মাটিতে মিশে যাওয়া বি ও জি এল কারখানা সেই সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।শ্রমিক মহল্লায় এখন অনিশ্চিত ভাবনার কালো মেঘ।নেই নতুন কর্মসংস্থান রাষ্ট্রায়ত্ব কারখানা সেইল বাঁচানোর লড়াই রাজপথে ।বেসরকারি কারখানার ধুকে ধুকে এগিয়ে চলা শহরের শিল্প শহরের তকমা হারিয়ে যাওয়ার মুখে।
আজকের দিনে তাও কিছুটা পুজোর গন্ধ অবশিষ্ট , ইস্পাত কারখানার বিভাগে বিভাগে পুজোর আমেজ আজ ও কিছুটা হলেও বিদ্যমান। প্রতিবছর বিশ্বকর্ম পুজোর দিনে দুর্গাপুর বাঁচানোর অঙ্গীকার শিল্প শহর হিসেবেই বেঁচে থাকুক শহর।


