দ্য ব্যাঙ্গালোর স্টোরি , মানবতার বিশ্বায়ন (তৃতীয় পর্ব)
শংকর পাল
ওসমান ঘরে ঢুকেই দেখতে পেল যন্ত্রনায় শিখা কাতরাচ্ছে, পাশে ফোনটা পরে রয়েছে।ওসমান নিজের ফোন টা তুলে ওলা কিংবা উবের এর খোঁজ চলে গেল আরো ১০ মিনিট আর অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। তখন যেন তার অসুরের শক্তি চ্যাংদোলা করে লিফটে সেখান থেকে সোজা নীচে।সোসাইটির সভাপতি ঘরের দরজা বন্ধ করে নীচে চলে এলো। সামনেই ওসমান দেখলো শিব নারায়ণের অটো বললো সামনের হাসপাতালে যেতে হবে কিন্তু শিখা কিছু বললো কাছে গিয়ে শোনার চেষ্টা কে আর পুরমের দিকে গ্রিনফিল্ড হসপিটাল।
শিবনারায়ণ অটো চালাতে গিয়ে দেখল সামনের রাস্তায় সারি সারি গাড়ি।সামনের গলি ধরে অটো চললো প্রচন্ড বৃষ্টিতে অটোর মধ্যে সবাই ভিজে টইটুম্বুর।
গলি থেকে রাজপথ উঠতেই জলের স্রোত বাড়তে লাগলো।একি এত জল কোথা থেকে এলো শহরে।
শিব নারায়ণ বললো আর হয়তো যেতে পারবো না কিন্তু ওসমানকে যেতেই হবে ।শিব নারায়ণ চোয়াল শক্ত করে এগিয়ে চললো হটাৎ জমা জলের মাঝে ম্যানহলে পড়লো গাড়ি , ঝাকুনি দিয়ে গাড়ি থেমে গেলো।কিন্তু ওসমান ও শিব নারায়নদের থামলে চলবে না চললো লড়াই গাড়ি তোলার গাড়ির মধ্যে শিখা ছটফট করছে যন্ত্রনায় ।প্রচুর চেষ্টার মধ্যেই গাড়ি আবার উঠলো। চললো গাড়ি কিন্তু আজ যে মহা দুর্যোগ ব্যাঙ্গালোরের রাস্তায় জলের স্রোতে গাড়ি চলতে পারলো না স্টার্ট থেমে গেলো ।
কিন্তু যারা জীবন বাজি রেখে জীবন বাঁচানোর লড়াই করে তারা হারতে শেখে নি চোখের সামনে দেখল একটু মাল ঠেলার ভ্যান হাতে করে ঠেলতে হবে জল তখন কোমর সমান।শিব নারায়ণ এবং ওসমান দুজনে ধরে তুললো শিখাকে ভ্যানে বসালো।কিন্তু এতটাই জলের স্রোত সম্ভব হচ্ছিল না পাশের দোকানে হরিহর রেড্ডি ব্রাদার্স থেকে এক সেলস এর কাজ করা রত্নেশ্বর সাউ হাত লাগালো চললো গাড়ি চোখের সামনে শিব নারায়ণের অটো উল্টে গেল স্রোতে।
তখন ও কতটা দূর ওরা শুধু জানে একটা প্রাণ বাঁচাতে হবে কারণ সে আরেকটা প্রানের জন্ম দিতে চায়।
অন্যদিকে অনিক গাড়ি নিয়ে জ্যামে আটকে গেলো ব্যাঙ্গালোরের নাগরিক পরিষেবা কি শুধুই মুখোশ সেটা খুলে দিল আজকের বৃষ্টি রাস্তায় সারিবদ্ধ ভাবে গাড়ি দাঁড়িয়ে ।গাড়ির মধ্যে এসি চললেও অনিক কিন্তু ঘামছে এক অজানা আতঙ্কে।এতক্ষনে হয়তো তা ঘরের সব কিছু লুঠ হয়ে গেছে সঙ্গে শিখাও ভাবতে ভাবতে সামনের গাড়িটা চলতে শুরু করলো।
হটাত বিদ্যুতের ঝলকানি থেমে গেলো অনিকের গাড়ি কি হলো ? জানতে হলে পরের পর্বে এবং শেষ পর্বে।


