এই সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের রাশিয়া সফরটি দুটি দেশের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের একটি স্পষ্ট লক্ষণ। এই সফরটি এমন সময়ে আসে যখন উভয় দেশই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হচ্ছে।
কিমের সফরকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দু'জন নেতা অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক অপ্রসারণের মতো বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
আলোচনা শেষে জারি করা যৌথ বিবৃতিতে, কিম এবং পুতিন বলেছেন যে তাদের দেশগুলি "কৌশলগত অংশীদার" এবং তারা সমস্ত ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে দুটি দেশ "একটি আরও স্থিতিশীল এবং নিরাপদ বিশ্ব তৈরি করতে একসাথে কাজ করতে প্রস্তুত"।
কিমের রাশিয়া সফর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে দুটি দেশ তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে তার একটি লক্ষণ। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্ররা উত্তর কোরিয়ায় বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদিকে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে আরও নমনীয়ভাবে আচরণ করেছে।
কিমের রাশিয়া সফরে কোন নির্দিষ্ট চুক্তি হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। তবে এটি সম্ভব যে দুটি দেশ তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারিত এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে তাদের অবস্থান সমন্বয়ের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে।
কিমের রাশিয়া সফর উত্তর কোরিয়ার বিশ্ব মঞ্চে এখনও কিছু বন্ধু আছে তার একটি অনুস্মারক। রাশিয়া একটি শক্তিশালী দেশ যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা রাখে। এটি রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক বিষয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রভাব দেয়।
আসন্ন মাস এবং বছরগুলিতে উত্তর কোরিয়া এবং রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠবে তা দেখা আকর্ষণীয় হবে। দুটি দেশ একই ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে এবং তারা তাদের চেয়ে বেশি কিছু মিল খুঁজে পেতে পারে।


