ভগ্নাবশেষে হারিয়ে যাচ্ছে ভগৎ সিংয়ের স্মৃতি: উয়ারী গ্রামের ইতিহাস কাঁদছে
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার খন্ডঘোষ ব্লকের উয়ারী গ্রামে একসময় লুকিয়ে ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু আজ সেই অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী ঘোষ পরিবারের ঐতিহাসিক বাড়িটি ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে।
১৯২৮ সালে ব্রিটিশ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিপ্লবী ভগৎ সিং এবং তাঁর সহযোগী বটুকেশ্বর দত্ত এই গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার জন সন্ডার্স হত্যার পর, তাঁদের পালানোর পথ হয়ে ওঠে উয়ারী গ্রাম। প্রথমে বটুকেশ্বর দত্তের পৈতৃক বাড়িতে তাঁরা আশ্রয় নেন। কিন্তু পুলিশের তৎপরতা বাড়লে, ভগৎ সিংকে স্থানান্তরিত করা হয় ঘোষ পরিবারের বাড়ির একটি ভূগর্ভস্থ কক্ষে।
কঠিন সময়ের গোপন পরিকল্পনা
ভূগর্ভস্থ কক্ষটি ছিল সম্পূর্ণ গোপন। প্রবেশদ্বারটি একটি কাঠের শোকেসের আড়ালে লুকানো ছিল। পরবর্তী ১৫ দিন সেই কক্ষেই বসে ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা তৈরি করেন, যা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
ইতিহাসের অসংরক্ষিত স্মৃতি
কিন্তু আজ সেই বাড়িটি প্রায় ধ্বংসাবশেষে রূপ নিয়েছে। প্লাস্টার খসে পড়েছে, আর ইঁটের গাঁথনি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, বহু বছর ধরে এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের প্রতি কেউ নজর দেয়নি।
উয়ারী গ্রামবাসীর আবেদন, এই বাড়িটি যেন সংরক্ষণ করা হয়। এটি শুধুমাত্র তাঁদের গ্রামের গর্ব নয়, গোটা দেশের একটি অমূল্য ঐতিহ্য। প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে ইতিহাসের এই অংশটি হারিয়ে যেতে বসেছে।
একটি বার্তা ভবিষ্যতের জন্য
বিপ্লবীদের স্মৃতিচিহ্ন শুধুমাত্র অতীতের নয়, তা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের দায়িত্বও মনে করিয়ে দেয়। ভগৎ সিংয়ের মতো মহান ব্যক্তিত্বের স্মৃতি রক্ষা করা কেবল একটি ঐতিহাসিক কাজ নয়, এটি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের আদর্শ তুলে ধরার একটি মাধ্যম।
তাহলে আমরা কি এই ঐতিহ্য রক্ষা করব, নাকি ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে চিরতরে হারিয়ে যেতে দেব?


