দুর্গাপুর :
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, কিংবদন্তি সঙ্গীতস্রষ্টা সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দুর্গাপুর ইস্পাত নগরী সেজে উঠছে এক বিশেষ আয়োজনে। শুধু নিছক স্মরণ নয়, বরং তাঁর সৃষ্টিকে পাথেয় করে বাংলার ম্লান হতে থাকা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের এক আন্তরিক ডাক শোনা যাচ্ছে এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে। রাজ্য জুড়ে পালিত হতে চলা 'সলিল সমারোহ'-এর অংশ হিসেবে দুর্গাপুরের সমস্ত সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সলিল সমারোহ উদযাপন কমিটির সহযোগিতায় 'স্ফুলিঙ্গ সাংস্কৃতিক শাখা' এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
Subscribe via Mobile
আগামী ২৯শে মার্চ, ২০২৫ (শনিবার) বিকেল পাঁচটায় ভাষা শহীদ উদ্যান থেকে কিশোর বাহিনীর পদযাত্রা ও মশাল দৌড়ের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই উদযাপন। সেই মশাল যখন তানসেন অ্যাথলেটিক ক্লাবের মুক্ত মঞ্চে পৌঁছাবে, তখন সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সলিল চৌধুরীর কালজয়ী গান, তাঁর সুরের জাদু মুগ্ধ করবে শ্রোতাদের। পরদিন, ৩০শে মার্চ (রবিবার), সুরেন চন্দ্র মডার্ন স্কুলে অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও অঙ্কন প্রতিযোগিতা, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে সলিল চৌধুরীর চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে।
আয়োজকদের কণ্ঠে এক গভীর আর্তি – "এই আয়োজন শুধুই সলিল চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী পালন করার জন্য নয়।" তাঁরা মনে করেন, আজ যখন বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল "কুৎসিত অসুরের কার্নিভালে" কলুষিত হচ্ছে, তখন সলিল চৌধুরীর গানই হতে পারে প্রতিবাদের ভাষা, প্রেরণার উৎস। তাঁর সেই উদাত্ত আহ্বান, "ও মোদের দেশবাসীরে— আয়রে পরাণ ভাই আয়রে রহিম ভাই / কালো নদী কে হবি পার," আজও মানুষকে একজোট হওয়ার শক্তি জোগায়। অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজও মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গেয়ে ওঠেন, "পথে এবার নামো সাথী পথেই হবে এপথ চেনা।"
আয়োজকদের পক্ষ থেকে দীপক দেব (সভাপতি), কানাই বিশ্বাস (কার্যকরী সভাপতি), এবং যুগ্ম সম্পাদক শ্রীমন্ত তরফদার ও অসীমযশ চক্রবর্তী সহ সকলে এই কালজয়ী সুরকারের জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠানে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁদের কণ্ঠে এক গভীর আর্তি – "এই আয়োজন শুধুই সলিল চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী পালন করার জন্য নয়।" আজ যখন বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল "কুৎসিত অসুরের কার্নিভালে" কলুষিত, তখন সলিল চৌধুরীর গানই প্রতিবাদের ভাষা, প্রেরণার শিখা। তাঁর সেই অমোঘ ডাক, "ও মোদের দেশবাসীরে— আয়রে পরাণ ভাই আয়রে রহিম ভাই / কালো নদী কে হবি পার," আজও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে মানুষকে পথ দেখায়, জুগিয়ে চলে সাহস – "পথে এবার নামো সাথী পথেই হবে এপথ চেনা।"
এই চেতনাকে পাথেয় করেই আয়োজকরা চান দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়তে, জাগিয়ে তুলতে লুপ্তপ্রায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। তাঁদের স্বপ্ন, এই উদ্যোগের স্ফুলিঙ্গ থেকে যেন "আরও শত শত সলিল চৌধুরী জেগে উঠুক" বাংলার বুকে। শুধু তাই নয়, এই উদযাপনকে দীর্ঘস্থায়ী রূপ দিতে পরবর্তী সময়ে ইস্পাত নগরীর বিভিন্ন জনবহুল স্থানে সেমিনার ও আরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই গানগুলিকেই সঙ্গী করে, এই চেতনাকেই মশাল হিসেবে ব্যবহার করে আয়োজকরা চান বাংলার কোনায় কোনায় পৌঁছে যেতে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে। তাঁদের স্বপ্ন, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে যেন "আরও শত শত সলিল চৌধুরী জেগে উঠুক" বাংলার মাটিতে।
তাই, শুধু একজন কিংবদন্তীকে স্মরণ করতে নয়, বরং এক সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, নতুন দিনের স্বপ্ন দেখতে, আগামী ২৯শে মার্চ, শনিবার, সন্ধ্যা ৬টায় তানসেন অ্যাথলেটিক ক্লাবের মুক্ত মঞ্চে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। আসুন, সলিল চৌধুরীর সুরে একসাথে গলা মিলিয়ে ফিরিয়ে আনি বাংলার সোনালী সাংস্কৃতিক দিনগুলি।