২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলন থেকে প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহ্য নিয়ে বিতর্ক উঠেছে
দ্য হেগ, নেদারল্যান্ডস – ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলন, যা নেদারল্যান্ডসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয়েছে, আজ দুদিন পর সমাপ্ত হয়েছে। এই সম্মেলনে ৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান, পার্টনার দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। ওয়ার্ল্ড ফোরামে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনটি নতুন নিযুক্ত সচিব মার্ক রুত্তে-এর নেতৃত্বে চলেছে। প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল প্রতিটি সদস্য দেশের জাতীয় গড় উৎপাদনের (জিডিপি) ৫% প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বৃদ্ধি করার একটি বিতর্কিত প্রস্তাব, যা যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহে এগিয়ে চলেছে এবং ভূ-রাজনৈতিক চাপের মধ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
মে ২০২৪-এ প্রাক্তন সচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ এই সম্মেলনের তারিখ ও স্থান ঘোষণা করেন। দ্য হেগ ও আমস্টারডাম বিমানবন্দর স্কিপহোলের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। ফলে ভেটেরান্স ডে প্যারেড ও ভিনেনডাল-ভিনেনডাল সাইকেল রেস সহ কয়েকটি অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে, তবে আমস্টেল গোল্ড রেস নেতৃবৃন্দের আলোচনার পর চলতে পারে। ২৩ জুন রাজা উইলেম-অ্যালেকজান্ডার সম্মেলনের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন।
সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পোল্যান্ডের পূর্বাহ্নে প্রতিরক্ষা ব্যয় ৪.৭% জিডিপিতে বৃদ্ধি করা, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের প্রতিক্রিয়া। এটি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ২০২৩ সালে রেকর্ড ২৭৯ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ের রিপোর্ট দিয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০% বেশি। তবে প্রস্তাবিত ব্যয়বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও প্রভাব নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে বিতর্ক চলছে।
ন্যাটোর ঐতিহ্যগত ভূমিকা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপ, আবার তীব্র আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জার্নাল অফ কনফ্লিক্ট রেজোলিউশনের ২০২১ সালের একটি গবেষণা ন্যাটো-নেতৃত্বাধীন কার্যকলাপকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত করে, যা সংঘটনের শান্তিপ্রিয় কাহিনির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। সমালোচকরা অর্থনৈতিক অসমতা নির্দেশ করছেন, যেখানে ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে ১৫% মজুরি স্থির থাকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বৃদ্ধি সংযোগ করা হচ্ছে।
সম্মেলনের চিত্রে সুশৃঙ্খল পোশাকে বিশ্বনেতারা একত্র দাঁড়ানোর দৃশ্য বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া আকর্ষণ করেছে। কেউ এটিকে সমষ্টিগত নিরাপত্তার প্রতীক মনে করছেন, অন্যদের মতে এটি সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহ্যের কঠোর স্মৃতিচিহ্ন। ২০১০ সালে আরব স্প্রিং প্রতিবাদের ভাবনা ফিরে আসছে। ন্যাটোর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তবে জনমত এখনো বিভক্ত।


