বেটি বাঁচাও প্রকল্পের নামে প্রতারণা? ৭৯% টাকা খরচ বিজেপির প্রচারেই
নয়াদিল্লি:
মেয়েদের সুরক্ষা ও শিক্ষার নামে প্রচারিত বিজেপির বহুল প্রচারিত প্রকল্প ‘বেটি বচাও বেটি পড়াও’ (বিবিবিপি)-এর ভেতরের কাহিনি সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে। সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে প্রকাশ, প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগই খরচ হয়েছে বিজ্ঞাপন ও প্রচারের পেছনে, আসল কাজে খুব কমই খরচ হয়েছে।
কমিটি জানিয়েছে, ২০১৬-১৯ সালের মধ্যে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৪৪৬.৭২ কোটি টাকার মধ্যে ৭৮.৯১% অর্থ খরচ হয়েছে কেবলমাত্র মিডিয়া প্রচারে। অন্যদিকে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি বা স্বাস্থ্য-সুরক্ষার মতো মূল ক্ষেত্রগুলো অবহেলিতই থেকে গেছে।
বিরোধীরা বলছে, প্রকল্প আসলে বিজেপির নিজেদের ইমেজ তৈরির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘মেয়েদের নাম করে কোটি কোটি টাকা বিজেপির প্রচারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মেয়েদের জন্য আসল কাজ কোথায়?’’
প্রকল্পের শুরুর (২০১৪-১৫) পর থেকে ২০১৯-২০ পর্যন্ত মোট বাজেট বরাদ্দ ছিল ৮৪৮ কোটি টাকা। তার মধ্যে রাজ্যগুলোর কাছে ছাড়া হয়েছে ৬২২.৪৮ কোটি টাকা, কিন্তু তারা খরচ করতে পেরেছে মাত্র ২৫%। অর্থাৎ রাজ্যগুলোকেও সঠিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি, কেন্দ্র নিজের হাতে মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট করে ভোট বৈতরণী পার করতে চেয়েছে।
কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজ্যগুলোর পারফরম্যান্সও আশানুরূপ নয়, কারণ প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণের থেকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে বিজেপির প্রচারযুদ্ধে। এমনকি, দেশের শীর্ষ অডিট সংস্থা সিএজি-ও প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা করেছিল আগেই।
যদিও সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী জন্মের সময় মেয়ে-ছেলে অনুপাত সামান্য উন্নত হয়েছে (৯২১), কিন্তু তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। তবু বিজেপি শাসক দলের কাছে সেটিও কেবল প্রচারের হাতিয়ার।
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে — দেশের মেয়েরা কি কেবল পোস্টারে ছবি হয়ে থাকবে? প্রকল্পের নামে মেয়েদের ব্যবহার করে বিজেপির ভোট রাজনীতি আর কতকাল চলবে? জনগণের করের টাকা প্রকৃত উদ্দেশ্যে খরচ না করে প্রোপাগান্ডায় উড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিজেপিকে জবাবদিহি করতে হবে — বলছেন বিরোধী নেতারা।


