কাঠমাণ্ডু/ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ – বাংলাদেশের সহিংস লুঠপাঠের ঘটনার পর নেপালেও শুরু হয়েছে একই চিত্র। মদের দোকান, কাপড়ের দোকান, ইলেকট্রনিক্স শোরুম, গ্যাস সিলিন্ডার—যা সামনে পাচ্ছে তাই লুঠ করা হচ্ছে। এমনকি জেল ভেঙে অস্ত্রশস্ত্র পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়ার খবর মিলেছে।
অভিযোগ উঠছে, এই লুঠপাঠের সঙ্গে জড়িতদের বড় অংশই নিজেদের ‘জেন জি’ বলে দাবি করা তরুণ সমাজ। কিন্তু সমালোচকরা এখন এই প্রজন্মকে আখ্যা দিচ্ছেন ‘গেঞ্জি জেনারেশন’ হিসেবে—আবেগপ্রবণ, বেপরোয়া এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। সোশ্যাল মিডিয়া আর ইন্টারনেট নির্ভর জীবনে তারা হারিয়েছে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা, বিশ্লেষণী দৃষ্টি আর নৈতিক বোধ। শিক্ষা, জ্ঞান ও দূরদর্শিতার অভাবে তাদের প্রতিবাদও রূপ নিচ্ছে লুঠপাঠ ও গুণ্ডামির ঘটনায়।
শ্রীলঙ্কার তরুণ সমাজের সঙ্গে এই অবস্থার তীব্র পার্থক্য চোখে পড়ছে। সেদেশের যুব সমাজ অর্থনৈতিক সংকটকালে লুঠপাঠে না গিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার বদল চেয়েছিল এবং তা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এমন নেতৃত্বের হাতে তুলে দিয়েছিল, যার ফলে আজ শ্রীলঙ্কা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বিপরীতে বাংলাদেশ ও নেপালের তরুণ সমাজের কর্মকাণ্ড আজ স্পষ্টতই এক অশিক্ষিত, অসভ্য ও অনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।
বিশ্লেষকদের মতে, বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকারীরা আজকের অলস ও ভোঁতা মাথার তরুণদের দাবার ঘুঁটি বানিয়ে ব্যবহার করছে, অথচ তারা নিজেরাই বুঝতে পারছে না কীভাবে এদের দিয়ে খেলা খেলছে ক্ষমতাধররা। যদি গঠনমূলক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা না দেওয়া যায়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার এক বড় প্রজন্ম ভবিষ্যত গড়ার পরিবর্তে ধ্বংসযজ্ঞের দিকেই এগোবে।




