প্যারিস: প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রস্তাবিত কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ফ্রান্সে। ‘ব্লক এভরিথিং’ (Bloquons Tout) নামে পরিচিত এই গণআন্দোলন রাজধানী প্যারিসসহ অন্যান্য প্রধান শহরকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। পেনশন ফ্রিজ এবং স্বাস্থ্যখাতে ৫ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় কমানোর মতো কঠোর বাজেট প্রস্তাবের পরই আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু-র নিয়োগের পর জনমনে অসন্তোষ আরও প্রকট হয়েছে।
এই বিক্ষোভের ব্যাপকতা ২০১৮ সালের ‘ইয়েলো ভেস্টস’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক নীতিমালার প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হলেও, বর্তমানে এটি ম্যাক্রোঁর পদত্যাগের দাবিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা গাড়ি ও আবর্জনার স্তূপে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ৮০,০০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে, যার ফলস্বরূপ শত শত বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করা হচ্ছে। এই সহিংসতা কেবল শহরের জনজীবনকেই ব্যাহত করেনি, বরং সরকারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত ১৪ মাসে দেশটিতে তিনজন প্রধানমন্ত্রীর পতন ঘটেছে।
বিক্ষোভের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি বাতিল করা, বিশেষত পেনশন ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় হ্রাস বন্ধ করা। আন্দোলনকারীরা অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং জনসেবামূলক কর্মসূচিতে কাটছাঁট বন্ধ করারও দাবি জানাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য একটি অধিকতর ন্যায়সঙ্গত ও সামাজিক কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
এই বিক্ষোভে ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টি (PCF) সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। অন্যান্য বামপন্থী সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে দলটি বাজেট কাটছাঁট এবং নব্য-উদারনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে ধর্মঘট ও গণবিক্ষোভকে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা ম্যাক্রোঁর সরকারের পতনের জন্য দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়েছে।





