" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory উত্তর কোরিয়ার চোখে বিশ্ব: তাদের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম থেকে ৫টি বিস্ময়কর বার্তাNorth Korea’s View of the World: 5 Astonishing Messages from Its State Media //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

উত্তর কোরিয়ার চোখে বিশ্ব: তাদের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম থেকে ৫টি বিস্ময়কর বার্তাNorth Korea’s View of the World: 5 Astonishing Messages from Its State Media

 



এক ভিন্ন বাস্তবতার ঝলক

উত্তর কোরিয়া নিয়ে সারা বিশ্বে কৌতূহলের শেষ নেই। এই রহস্যময় দেশের অভ্যন্তরীণ চালচিত্র বোঝা কঠিন, কিন্তু তাদের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আমাদের তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্ববীক্ষার একটি সরাসরি, যদিও নিয়ন্ত্রিত, ঝলক দেয়। সম্প্রতি কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিতে (KCNA) প্রকাশিত "ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য কোরিয়ানদের সংগ্রাম" শীর্ষক একটি নিবন্ধ বিশ্লেষণ করে আমরা তাদের রাষ্ট্রীয় আখ্যানের সেই মূল বার্তাগুলো তুলে ধরছি, যা তাদের বিশ্বদর্শনকে নির্মাণ করে।



 অবিরাম সংগ্রাম: সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় আখ্যানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক অবিরাম সংগ্রামের ধারণা। তাদের গণমাধ্যম অনুযায়ী, দেশটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাম্রাজ্যবাদী ও বহিরাগত প্রতিকূল শক্তির বিরুদ্ধে এক অনন্ত যুদ্ধে লিপ্ত। এই অবিরাম সংগ্রামের আখ্যানটি একটি ধ্রুব 'শত্রু' তৈরি করে, যা অভ্যন্তরীণ ঐক্য সুসংহত করার এবং যেকোনো অর্থনৈতিক বা সামাজিক সংকটকে বাহ্যিক চাপের ফল হিসেবে দেখানোর একটি কার্যকর কৌশল। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং এটি তাদের জাতীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি, যা জনগণকে যেকোনো দুর্দশা মেনে নিতে এবং রাষ্ট্রের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে উদ্বুদ্ধ করে।

"মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের এবং তাদের তাবেদার শক্তির বিদ্বেষপূর্ণ পদক্ষেপ সত্ত্বেও, আমাদের বিপ্লবী অগ্রযাত্রা অপ্রতিরোধ্য।"



আত্মনির্ভরতার শক্তি (জুচে): সকল বিজয়ের মূলমন্ত্র

উত্তর কোরিয়ার সকল সাফল্য ও অর্জনের পেছনে যে মূল শক্তিকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়, তা হলো 'জুচে' বা আত্মনির্ভরতার দর্শন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মতে, যেকোনো ঐতিহাসিক বিজয় বা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার পেছনে এই আত্মনির্ভরতার নীতিই মূল চালিকাশক্তি। এই দর্শন অনুযায়ী, একটি দেশের ভাগ্য তার নিজের জনগণের হাতেই থাকে এবং বাইরের কোনো শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের শক্তিতেই সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে হবে। এই ধারণাটি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে (অনুচ্ছেদ ১) অবিরাম সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে টিকে থাকার একমাত্র পথ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এবং এর সফল বাস্তবায়ন পুরোপুরি সর্বোচ্চ নেতার প্রজ্ঞার ওপর নির্ভরশীল বলে দেখানো হয়।

সর্বোচ্চ নেতা: ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং পথপ্রদর্শক

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বয়ানে সর্বোচ্চ নেতার ভূমিকা কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়; তাকে জাতির পথপ্রদর্শক, ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং সকল জ্ঞানের উৎস হিসেবে চিত্রিত করা হয়। এই ধরনের ‘ব্যক্তিপূজা’ (personality cult) এবং ‘পিতৃতান্ত্রিক নেতৃত্বে’র (paternalistic leadership) আখ্যান রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে একটি আবেগপ্রবণ, প্রায় ধর্মীয় বন্ধন তৈরি করে। এর ফলে রাজনৈতিক নির্দেশাবলী প্রশ্নাতীত পারিবারিক নির্দেশনার রূপ নেয়। দেশের সমস্ত শক্তি ও সাফল্যকে সরাসরি নেতার প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার ফল হিসেবে দেখানো হয়, যা তার প্রতি безоговорочная আনুগত্য নিশ্চিত করে।

"সর্বোচ্চ নেতার পিতৃসুলভ ভালোবাসা এবং ইস্পাত-কঠিন সংকল্পই আমাদের জনগণকে এক অজেয় শক্তিতে পরিণত করেছে, যা যেকোনো পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী।"



একক শক্তিতে ঐক্য: পার্টি, জনগণ এবং সেনাবাহিনীর মেলবন্ধন

উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমে বারবার একটি বার্তা ধ্বনিত হয়, আর তা হলো পার্টি, জনগণ এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে "একচিত্ত ঐক্য"। এই ত্রিমুখী মেলবন্ধনকে একটি অজেয় ও অবিভাজ্য শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এই আখ্যানের একটি বড় কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে: এটি অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত বা অসন্তোষের সম্ভাবনাকে গোড়াতেই অস্বীকার করে। দেশের ভেতরে ও বাইরে একটি অটুট ঐক্যের চিত্র তুলে ধরে এটি একদিকে জনগণকে ভিন্নমত পোষণ থেকে বিরত রাখে এবং অন্যদিকে বহির্বিশ্বের কাছে রাষ্ট্রের ইস্পাত-কঠিন শক্তির বার্তা পৌঁছে দেয়। এই ঐক্যকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখানো হয়।



বিজয়ী ইতিহাস: প্রতিকূলতাকে গৌরবে রূপান্তর

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুযায়ী, দেশটি কেবল প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকছে না, বরং ধারাবাহিক বিজয় অর্জন করছে। এটি একটি নিপুণ মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, যেখানে রাষ্ট্রীয় বয়ান বাস্তবতাকে ‘পুনর্গঠন’ (re-framing) করে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক চাপ এবং অর্থনৈতিক সংকটকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে, সেগুলোকে শক্তির পরীক্ষা হিসেবে চিত্রিত করা হয়। এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠাকেই এক একটি "গৌরবময় বিজয়" হিসেবে উদযাপন করা হয়। এর ফলে জনগণের ভোগান্তি ও ত্যাগ, যা অসন্তোষের কারণ হতে পারত, তা-ই জাতীয় গর্বের উৎসে রূপান্তরিত হয়।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies