কলকাতা (৩ জানুয়ারি, ২০২৬) — ভেনিজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক সামরিক হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘অপহরণের’ প্রতিবাদে আজ বিকেলে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল কলকাতার রাজপথ। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা CPI(M)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল ধিক্কার মিছিলে কয়েক হাজার বাম কর্মী-সমর্থক অংশ নেন।
সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল তিলোত্তমা
শনিবার বিকেলে ধর্মতলার লেনিন মূর্তির পাদদেশ থেকে এই প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি এসএন ব্যানার্জি রোড ও মৌলালি হয়ে এজেসি বোস রোড পর্যন্ত পরিক্রমা করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “ভেনিজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন নিপাত যাক”, “সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমেরিকা দূর হটো” এবং “মাদুরোকে এখনই মুক্তি দাও”—এরকম একাধিক স্লোগান দেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে নেতারা বলেন:
রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ: আমেরিকার এই হামলা কোনো সাধারণ সামরিক অভিযান নয়, বরং এটি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর নগ্ন ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ (State Terrorism)।
জাতিসংঘের অবমাননা: জাতিসংঘের চার্টার ২(৪) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে আমেরিকা যেভাবে কারাকাসে বোমাবর্ষণ করেছে, তা বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকি।
তেল দখলের রাজনীতি: বাম নেতাদের দাবি, মাদক দমনের দোহাই দিলেও আমেরিকার আসল লক্ষ্য ভেনিজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ দখল করা।
মার্কিন পতাকায় অগ্নিসংযোগ
কলকাতার রাজাবাজার ও এন্টালি এলাকায় বিক্ষুব্ধ বাম সমর্থকরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুতুল এবং মার্কিন পতাকা পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রতিবাদীদের বক্তব্য, দুনিয়ার পুলিশ সাজার চেষ্টা করে আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে।
পলিট ব্যুরোর কড়া বার্তা
মিছিলের পাশাপাশি সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলার জনগণের পাশে তারা সর্বশক্তি দিয়ে লড়বে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ব্রিকস (BRICS) এবং বৈশ্বিক দক্ষিণ (Global South)-এর দেশগুলোকে এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মার্কিন দস্যুতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি-ও ভেনিজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর এই আঘাতকে ‘সাম্রাজ্যবাদী দস্যুতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।


