নিজস্ব প্রতিনিধি | হায়দ্রাবাদ
হায়দ্রাবাদে সফলভাবে সম্পন্ন হলো সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির (AIDWA) ১৪তম জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে আগামী তিন বছরের জন্য সংগঠনের সাংগঠনিক রূপরেখা নির্ধারণের পাশাপাশি নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের মেলবন্ধনে গঠিত এই কমিটি আগামী দিনে ভারতের নারী আন্দোলনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শীর্ষ নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা ও পরিবর্তন
সম্মেলনের প্রতিনিধিবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সংগঠনের শীর্ষ পদে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল ও পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে:
সভানেত্রী পদে পুনর্নির্বাচিত পি.কে শ্রীমতী: কেরলের প্রবীণ জননেত্রী এবং প্রাক্তন সাংসদ পি.কে শ্রীমতী (P.K. Sreemathi) পুনরায় সর্বভারতীয় সভানেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংসদীয় ও সাংগঠনিক দক্ষতা সংগঠনের নীতি নির্ধারণে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করবে।
সাধারণ সম্পাদিকা পদে কনীনিকা ঘোষ: সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা (General Secretary) হিসেবে নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বাংলার লড়াকু নেত্রী কনীনিকা ঘোষ (Kaninika Ghosh)। পশ্চিমবঙ্গের নারী আন্দোলনে তাঁর দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা এবং তৃণমূল স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবার জাতীয় স্তরে সংগঠনের সাংগঠনিক বিস্তার ও আন্দোলনে গতি আনবে।
সাংগঠনিক গুরুত্ব ও আগামীর অভিমুখ
নবনির্বাচিত এই নেতৃত্বের সামনে আগামী দিনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে:
সাংগঠনিক বিস্তার: উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে সংগঠনের ভিত্তি আরও মজবুত করা।
যৌথ আন্দোলন: মূল্যবৃদ্ধি, নারী নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে বিভিন্ন সমমনোভাবাপন্ন সংগঠনের সাথে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা।
নীতি নির্ধারণী ভূমিকা: জাতীয় স্তরে নারীদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পি.কে শ্রীমতীর অভিজ্ঞতা এবং কনীনিকা ঘোষের সাংগঠনিক ক্ষিপ্রতা—এই দুইয়ের সমন্বয় সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতিকে বর্তমান প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। হায়দ্রাবাদের এই সম্মেলন থেকে "গণতন্ত্র, সমঅধিকার ও মুক্তি"-র যে ডাক দেওয়া হয়েছে, নতুন নেতৃত্ব তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।


