![]() |
| AI GENERATED |
নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: জয় হলো মেহনতী মানুষের, জয় হলো লাল ঝান্ডার। দীর্ঘ টালবাহানা আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের (DSP) গেটে গেটে সিআইটিইউ-এর যে গর্জন শোনা যাচ্ছিল, অবশেষে তারই সুফল পেলেন হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক। কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা আসলে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের দীর্ঘকালীন আন্দোলনের এক বড় জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আন্দোলনের কাছে হার মানল কর্তৃপক্ষ:
গত কয়েক মাস ধরেই দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলে সিআইটিইউ-এর পক্ষ থেকে দাবি তোলা হচ্ছিল যে, বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে পুরনো মজুরিতে সংসার চালানো অসম্ভব। গেট মিটিং থেকে শুরু করে ডেপুটেশন— একের পর এক কর্মসূচিতে কর্তৃপক্ষকে কোণঠাসা করেছিল সিআইটিইউ। অবশেষে ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মজুরি তালিকায় শ্রমিকদের সেই দাবি প্রতিফলিত হয়েছে।
কী পেলেন শ্রমিকরা?
সিআইটিইউ-এর পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল যে, শ্রমিকদের কাজের ধরন অনুযায়ী ন্যায্য বিভাজন এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিধি মেনে ন্যূনতম মজুরি দিতে হবে। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে:
ওয়ার্কস এরিয়ায় দক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮৮ টাকা।
টাউন সার্ভিস ও প্রজেক্টস এলাকাতেও মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওভারটাইমের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ মজুরি এবং সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার যে দাবি সিআইটিইউ জানিয়ে আসছিল, তা-ও মেনে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
"লড়াই এখনও শেষ হয়নি":
এই জয়ের পর সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দের দাবি, "এটি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের প্রাথমিক জয়। কর্তৃপক্ষ সহজে কিছু দেয় না, আদায় করে নিতে হয়।" সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল মজুরি বৃদ্ধিই নয়, কাজের জায়গায় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধার দাবিতে লাল ঝান্ডার লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র হবে।
কারখানার গেটে শ্রমিকদের মধ্যে আজ খুশির মেজাজ। সাধারণ শ্রমিকরা বলছেন, "ইউনিয়ন পাশে ছিল বলেই আজ এই বাড়তি টাকাটুকু হাতে আসবে।" শিল্পনগরী দুর্গাপুরে এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, মেহনতী মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে লাল ঝাণ্ডাই তাঁদের প্রধান ভরসা।



