কলকাতা: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে গত সোমবার ভোরের সেই লেলিহান শিখা কেবল একটি গুদামকে ছাই করেনি, পুড়িয়ে খাক করে দিয়েছে কয়েক ডজন স্বপ্নকে। যে Wow! Momo আজ ভারতের অন্যতম বড় ফুড ব্র্যান্ড, তাদের লজিস্টিক হাব বা গুদামঘরের এই পরিণতি পুঁজিবাদের এক কুৎসিত রূপকে সামনে এনেছে।
১. 'তালাবন্ধ' মৃত্যুফাঁদ: নিরাপত্তা নাকি দাসত্ব?
সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ হলো—চুরির ভয়ে বা নিয়মের দোহাই দিয়ে শ্রমিকদের রাতে গুদামের ভেতরে বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছিল। আগুনের সময় তারা বেরোনোর চেষ্টা করলেও দরজায় তালা থাকায় ভেতরেই দগ্ধ হতে হয়েছে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি 'প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড'।
"আমাদের বাঁচাও, আমরা বেরোতে পারছি না"—ফোনে আসা এই শেষ আর্তনাদগুলো কি সাগর দরিয়ানি বা এই কর্পোরেট কর্তাদের কানে পৌঁছাবে?
২. আইনের তোয়াক্কা নেই, শুধুই মুনাফা
দমকল বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
গুদামটির কোনো ফায়ার ক্লিয়ারেন্স (Fire Safety Clearance) ছিল না।
জলাভূমি ভরাট করে বেআইনিভাবে এই বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছিল।
কোম্পানি ২৮টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের দাবি করলেও, জরুরি নির্গমনের (Emergency Exit) অভাব ছিল স্পষ্ট।
৩. ক্ষতিপূরণ কি প্রাণের বিকল্প?
ক্ষোভের মুখে দাঁড়িয়ে কোম্পানি ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং সারাজীবনের বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রাণের আগে কেন নিরাপত্তা নয়? কেন ১৬ জন (নিখোঁজসহ সংখ্যাটি আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা) শ্রমিকের মৃত্যুর পরই টনক নড়ল?
আমাদের দাবি এবং প্রতিবাদ
স্বচ্ছ তদন্ত: মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে 'জামিন অযোগ্য' ধারায় মামলা করতে হবে।
নিরাপত্তা অডিট: শহরের প্রতিটি বড় ব্র্যান্ডের গুদাম ও ফ্যাক্টরিতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ নিরাপত্তা অডিট করতে হবে।
তালাবদ্ধ সংস্কৃতি বন্ধ হোক: শ্রমিকদের পশুর মতো খাঁচায় (তালাবন্ধ করে) রাখার এই প্রথাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
উপসংহার: আজকের বাজারে Wow! Momo-র ভ্যালুয়েশন হয়ত আরও বাড়বে, কিন্তু সেই মুনাফার গন্ধে থাকবে শ্রমিকের পোড়া মাংসের গন্ধ। আমরা বিচার চাই, শুধু ক্ষতিপূরণ নয়।


