সোনালী পর্দার গ্ল্যামার আর আলোর ঝলকানি—সবই যেন ম্লান হয়ে গিয়েছিল সেদিন। যখন অভিনেতা মার্ক রাফালো তাঁর স্যুটের কোণে থাকা একটি ছোট্ট পিনের দিকে ইঙ্গিত করে বলতে শুরু করলেন এক করুণ সত্যের কথা। তাঁর কণ্ঠে কোনো দম্ভ ছিল না, ছিল না কোনো অভিনয়ের রেশ; বরং সেখানে মিশে ছিল অসহায় মানুষের জন্য গভীর হাহাকার।
রেনি নিকোলের স্মৃতি আর ঝরে যাওয়া চোখের জল
রাফালো এদিন স্মরণ করেন রেনি নিকোল গুডকে, যাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর সেই ছোট্ট পিনটি ছিল রেনির স্মৃতিতে। রাফালো বলেন, “এটি রেনির জন্য, এটি সেইসব আমেরিকানদের জন্য যারা আজ ঘরবন্দি, সন্ত্রস্ত এবং আতঙ্কিত। আমি নিজেও তাঁদেরই একজন।”
অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সাহসী কন্ঠস্বর
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘আগ্রাসন’ নিয়ে তাঁর কন্ঠ ছিল আবেগাপ্লুত কিন্তু তীব্র। তিনি যখন বলছিলেন, “আমরা অবৈধভাবে একটি দেশে হানা দিয়েছি,” তখন তাঁর দুচোখে ছিল অপরাধবোধ আর সহমর্মিতার অদ্ভুত এক মিশেল। তিনি সরাসরি অভিযোগ তুললেন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের অনৈতিকতার বিরুদ্ধে। তাঁর মতে, যখন আইন আর নৈতিকতার চেয়ে মানুষের দম্ভ বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন গোটা পৃথিবী এক গভীর বিপদের মুখে পড়ে।
“আমি কীভাবে চুপ থাকি?”
পুরস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মানুষ সাধারণত নিজের সাফল্যের কথা বলে। কিন্তু রাফালো ব্যতিক্রম। অসুস্থ শরীরেও তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে দ্বিধা করেননি যে, বর্তমানের এই পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক নয়। তাঁর করুণ স্বীকারোক্তি— “আমি জানি না আমি কীভাবে চুপ থাকব। আমার দেশপ্রেম আমাকে বাধ্য করছে এই অন্যায়কে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে।”
মার্ক রাফালো আমাদের মনে করিয়ে দিলেন যে, তারকা হওয়ার আগে আমরা সবাই মানুষ। বড় বড় পর্দার সুপারহিরোদের চেয়েও তাঁর বাস্তবের এই মানবিক রূপটি যেন অনেক বেশি শক্তিশালী। যেখানে স্বার্থের চেয়ে সত্য আর ভালোবাসার জয়গান গাওয়াই হলো আসল বীরত্ব।



