ওয়াশিংটন ডি.সি. — লাতিন আমেরিকায় নিজের সাফল্যের কথা ডোনাল্ড ট্রাম্প ফলাও করে প্রচার করলেও, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়টি মোটেও মসৃণ হচ্ছে না। সম্প্রতি ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে ভেনেজুয়েলার হর্তাকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন এআই-জেনারেটেড (neuro-images) ছবি পোস্ট করলেও, পর্দার পেছনের বাস্তব চিত্রটি বেশ ভিন্ন।
🖍 ট্রাম্পের প্রস্তাব ও এক্সন মবিলের অসম্মতি
কয়েক দিন আগে হোয়াইট হাউসে বড় বড় তেল কোম্পানির প্রধানদের নিয়ে এক বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানান। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দেন যে, কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নেবে এবং সব লেনদেন সরাসরি ওয়াশিংটনের সাথে হবে—কারাকাসের কোনো কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ থাকবে না।
কিন্তু এই আশ্বাসে সবাই তুষ্ট হতে পারেননি। এক্সন মবিল (ExxonMobil)-এর সিইও ড্যারেন উডস সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ সুরক্ষা আইন না থাকলে ভেনেজুয়েলায় বিপুল অর্থ ঢালা মোটেও লাভজনক হবে না।
🚩 পুরনো তিক্ততা ও ট্রাম্পের ক্ষোভ
উডসের এই অবস্থানের পেছনে জোরালো ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ ভেনেজুয়েলার তেল ক্ষেত্রগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত করার সময় এক্সন মবিল বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তবে ড্যারেন উডসের এই স্পষ্টবাদিতা পছন্দ হয়নি ট্রাম্পের। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার কোনো প্রকল্পে এক্সন মবিলকে না রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
"আমি এক্সনের প্রতিক্রিয়া পছন্দ করিনি। তারা বড্ড বেশি চালাকি করছে (playing too cute)।
2 আমি হয়তো তাদের বাইরে রাখার পক্ষেই থাকব।" — ডোনাল্ড ট্রাম্প
❗️ শেভরন ও বর্তমান পরিস্থিতি
এক্সন মবিলের মতো সংশয় আরও অনেক কোম্পানির মধ্যেই রয়েছে। ভেনেজুয়েলার বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বড় কোম্পানি ছাড়া উৎপাদন সামলানো অসম্ভব, আর হাতে গোনা সেই বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যেই এখন বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, শেভরন (Chevron) অবশ্য আগের অবস্থানেই অনড়। নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দী করার আগে থেকেই শেভরন ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল এবং তারা এখনও সেখানে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
#Venezuela #USA #OilPolitics #Trump #ExxonMobil


