কারাকাস, ভেনেজুয়েলা | ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে কালোতম রাত! যখন পুরো কারাকাস শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই আকাশ চিরে ধেয়ে এল মার্কিন মৃত্যুর দূত। কোনো যুদ্ধ ঘোষণা নয়, কোনো দীর্ঘ লড়াই নয়—স্রেফ ৩০ মিনিটের এক ‘সার্জিক্যাল’ অপারেশনে নিজের শয়নকক্ষ থেকে সস্ত্রীক অপহৃত হলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। মার্কিন কমান্ডো বাহিনী ডেল্টা ফোর্স যেন যমদূতের মতো নেমে এল প্রেসিডেন্টের সুরক্ষিত দুর্গ ‘ফুয়ের্তে তিউনা’-তে।
🚁 ‘অপারেশন অ্যাবসোলুট রিজলভ’: এক নিস্তব্ধ অপারেশন
রাত তখন ঠিক ২টো। কারাকাসের বাসিন্দারা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অন্তত সাতটি বিশাল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহরের সামরিক ঘাঁটিগুলো। আকাশে দেখা যায় দানবাকৃতির CH-47 চিনুক এবং MH-60 ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা রক্ষা করার জন্য থাকা অত্যাধুনিক রুশ S-300 মিসাইল সিস্টেম একবারের জন্যও গর্জে ওঠেনি!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে—এক সময়ের প্রতাপশালী নেতা মাদুরোকে হাতকড়া পরিয়ে, চোখে পট্টি বেঁধে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের হুঙ্কার, "আমরা মাদক সম্রাটকে ধরে এনেছি, এবার নিউইয়র্কের আদালতে তার বিচার হবে!"
🛡️ কোথায় ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা? নাকি এটি ছিল একটি ‘ইনসাইড জব’?
প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বের অন্যতম সেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো প্রেসিডেন্টের বেডরুম পর্যন্ত পৌঁছে গেল? কোনো ছোট অস্ত্র, আরপিজি (RPG) এমনকি একটি সাধারণ ম্যানপ্যাড (MANPAD) দিয়েও কেন প্রতিরোধ গড়া হলো না?
তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
ভেতরের শত্রু: ধারণা করা হচ্ছে, মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কোনো জেনারেল বা নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোটা অংকের অর্থ বা আমেরিকার কাছ থেকে ‘অভয়বরণ’ পাওয়ার বিনিময়ে রাডার সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
ইলেকট্রনিক ব্ল্যাকআউট: মার্কিন F-35 এবং EA-18G গ্রাউলার বিমানগুলো কারাকাসের পুরো যোগাযোগ এবং রাডার ব্যবস্থাকে জ্যাম করে দিয়েছিল। ফলে ভেনেজুয়েলার সেনারা বুঝতেই পারেনি কখন তাদের মাথার ওপর শত্রু চলে এসেছে।
বিশ্বাসঘাতকতার নীল নকশা: ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেত্রী ও নোবেল জয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোর এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি কেবল আক্রমণ নয়, এটি ছিল সাজানো একটি ‘কিডন্যাপিং’।
🏛️ বর্তমান পরিস্থিতি: হাহাকার নাকি উল্লাস?
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার কোনো বৈধ শাসক নেই। ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর ‘প্রুফ অফ লাইফ’ বা বেঁচে থাকার প্রমাণ দাবি করেছেন। এদিকে কারাকাসের রাস্তায় সেনাবাহিনী আর সাধারণ মানুষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। কেউ কাঁদছেন প্রিয় নেতার জন্য, আবার কেউ উল্লাস করছেন ‘স্বৈরাচারী’ শাসনের পতনে।
ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ এখন কার দখলে যাবে? রাশিয়া ও চীন কি চুপ করে বসে থাকবে? নাকি লাতিন আমেরিকায় শুরু হবে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ?


