ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে
বামপন্থীদের জোরালো সওয়াল
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR 2026) প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ ভোটারকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম দলগুলি। তাদের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ সংশোধন নয়, বরং প্রান্তিক মানুষকে বাদ দেওয়ার একটি কাঠামোগত চক্রান্ত।
জেলা-ভিত্তিক ভোটার হ্রাস
সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়া জেলাগুলোর তুলনামূলক চিত্র (In English).
Source: CEO West Bengal Draft Roll Data (Approximate figures)
শুনানি ও অযোগ্যতা বিশ্লেষণ
জানুয়ারি ১৩ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বৈষম্যের হার (In English).
Ineligibility figures include backlog and algorithmic flagging outcomes.
বিশ্লেষণ: উপরের চার্টগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনায় যে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গেছে, তা কোনো সাধারণ প্রশাসনিক ভুল হতে পারে না। বামপন্থীদের মতে, এই জেলাগুলোতে পরিযায়ী শ্রমিক এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর আধিক্য থাকাতেই তাদের টার্গেট করা হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত হওয়া শুনানিতে প্রায় ১০০% ক্ষেত্রেই ভোটারদের অযোগ্য ঘোষণা করা পদ্ধতিগত ত্রুটির দিকেই আঙুল তুলছে।
পদ্ধতিগত ত্রুটির স্বরূপ
কেন বাম দলগুলো এই সংশোধন প্রক্রিয়াকে 'ত্রুটিপূর্ণ' বলছে? প্রধান তিনটি কারণ নিচে দেওয়া হলো।
২০০২ লিঙ্কেজ
২২ বছর আগের নথি খুঁজে বের করা দরিদ্র ও নিরক্ষর মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব একটি কাজ।
অ্যালগরিদমিক ফ্ল্যাগ
অভিযোগ: নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট কিছু বিরোধী প্রধান এলাকার ভোটারদের টার্গেট করে ফ্ল্যাগ করছে।
অপর্যাপ্ত সময়
শুনানির জন্য খুব কম সময় দেওয়া হচ্ছে এবং নোটিশ প্রদানে চূড়ান্ত অব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
প্রান্তিক শ্রেণির ওপর বোঝা
সিপিআই(এম)-এর মতে, এই প্রক্রিয়াটি ভোটারদের ওপর একটি ‘Disproportionate Burden’ বা অস্বাভাবিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। যারা দিনমজুর বা পরিযায়ী শ্রমিক, তাদের পক্ষে জীবিকা বন্ধ করে দূরবর্তী শুনানি কেন্দ্রে হাজির হওয়া এবং পুরনো নথি প্রমাণ করা কার্যত নাগরিকত্ব হারানোর সমান।
মানবিক বিপর্যয় ও আত্মহত্যা
সিপিআই(এম) নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, পানহাটি সহ উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই প্রক্রিয়াটিকে তারা ‘অঘোষিত এনআরসি’ (NRC) হিসেবে দেখছে যা দরিদ্র মানুষের মনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বাম দলগুলোর ৫-দফা দাবি
আমরা এই নির্বাচনী 'শুদ্ধিকরণ' অভিযানের নামে চলা প্রহসন বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
স্বচ্ছতা ও লিঙ্কেজ প্রমাণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রাখা হোক।
১৪ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময়সীমা অবিলম্বে বর্ধিত করা হোক।
২০০২ লিঙ্কেজ শিথিল করে বর্তমান আইডি প্রুফকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
পাড়ায় পাড়ায় বা বিএলও স্তরে শুনানির ব্যবস্থা করে প্রান্তিক মানুষের হয়রানি কমানো হোক।
সমগ্র প্রক্রিয়ার ওপর একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অডিট (Independent Audit) পরিচালনা করা হোক।


