কলকাতা:
২০২৬-এর লড়াই হবে কেবল মেহনতি মানুষের লড়াই। দিল্লির এআইসিসি (AICC) বৈঠকে কংগ্রেসের এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্তকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে সিপিআই(এম) রাজ্য নেতৃত্ব এখন নিচুতলার সংগঠনকে ইস্পাতকঠিন করতে মরিয়া। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সাফ বার্তা— "জোট ড্রয়িং রুমে নয়, লড়াইয়ের ময়দানে গড়ে ওঠে।"
বামপন্থীদের বিকল্প রোডম্যাপ: ২০২৬-এর কৌশল
কংগ্রেসের সাথে জোট ভাঙার পর বামফ্রন্ট এখন তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রচার সাজাচ্ছে:
১. তৃণমূল ও বিজেপির 'গটআপ গেম' ফাঁস:
বামেদের অভিযোগ, তৃণমূলের দুর্নীতি আর বিজেপির সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। নিচুতলার মানুষের কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য থেকে নজর ঘোরাতেই এই দুই দল মেকি লড়াই করছে। বামেরা এই চক্রব্যূহ ভেঙে 'বিকল্প বামপন্থী জননীতি'র কথা তুলে ধরছে।
২. তারুণ্যের জয়গান:
ডিওয়াইএফআই (DYFI) এবং এসএফআই (SFI)-র মতো যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলোকে এবার প্রার্থী তালিকায় সিংহভাগ জায়গা দেওয়া হতে পারে। 'ইনসাফ যাত্রা' এবং 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'-র মাধ্যমে উঠে আসা একঝাঁক নতুন মুখকে বিধানসভায় পাঠাতে চায় আলিমুদ্দিন।
৩. প্রযুক্তি বনাম সংগঠন:
কংগ্রেস যখন আসন সংখ্যার অঙ্কে ব্যস্ত, সিপিআই(এম) তখন প্রতিটি বুথে 'ডিজিটাল প্রহরী' এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনভেস্টিগেশন টিম তৈরি করেছে। দুর্নীতির তথ্য প্রমাণসহ মানুষের দুয়ারে পৌঁছাতে ভিডিও ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করা হচ্ছে।
বামপন্থীদের বর্তমান শক্তি ও পরিকল্পনা
| লক্ষ্য | কর্মপন্থা |
| আসন সংখ্যা | ২৯৪টি কেন্দ্রেই বামপন্থী ও সহযোগী শক্তির প্রার্থী নিশ্চিত করা। |
| প্রধান ইস্যু | নিয়োগ দুর্নীতি, ১০০ দিনের কাজের বকেয়া, এবং গ্রামীণ ভারতের সংকট। |
| সংগঠন | অন্তত ৭০-৮০টি আসনে শক্তিশালী 'পকেট' তৈরি করে সেখানে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির। |
| প্রচার | বড় সভার চেয়ে ছোট ছোট পাড়া বৈঠক ও বাড়ি বাড়ি জনসম্পর্ক। |
নেতৃত্বের অভিমত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের সাথে বিচ্ছেদ বামপন্থীদের জন্য শাপে বর হতে পারে। এতে দলের কট্টর সমর্থক যারা জোটের কারণে বিমুখ হয়েছিলেন, তারা ফের লাল পতাকার নিচে সমবেত হতে পারেন। এছাড়া, বামফ্রন্ট এখন বামপন্থী অন্যান্য ছোট দল এবং বাম মনোভাপন্ন নাগরিক সমাজের সাথে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ পাবে।
মহম্মদ সেলিমের কথায়, "আমরা শুধু ভোট কাটার জন্য লড়াই করছি না, আমরা লড়াই করছি বাংলার মানুষের হারানো সম্মান এবং অধিকার ফিরিয়ে আনতে। যারা দুর্নীতি বা সাম্প্রদায়িকতার সাথে আপস করতে চায়, তারা জোট ছাড়লে আমাদের আন্দোলনের ক্ষতি হবে না।"


