" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য ও সার্বভৌমত্বের সংকট: দুর্গাপুরে 'পশ্চিম এশিয়ার ইতিকথা' নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য ও সার্বভৌমত্বের সংকট: দুর্গাপুরে 'পশ্চিম এশিয়ার ইতিকথা' নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: বর্তমান বিশ্বের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্ব এবং এর ঐতিহাসিক বিবর্তন নিয়ে এক তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা সভা হয়ে গেল দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারস্থিত মাঙ্গলিক হলে। সোশ্যাল সায়েন্স ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ (SIRS)-এর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই সভার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বিশিষ্ট অধ্যাপক ও গবেষক আলোক কুমার ঘোষ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ কে এন পানিক্করের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে সভার কাজ শুরু হয়।





অধ্যাপক আলোক কুমার ঘোষের বক্তব্যের মূল নির্যাস

অধ্যাপক ঘোষ তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে কেবল বর্তমান সংঘাত নয়, বরং ইতিহাসের পাতায় লুকিয়ে থাকা সাম্রাজ্যবাদের বীজগুলোকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো হলো:




১. যুদ্ধের নেপথ্যে ছদ্মবেশ: 

অধ্যাপক ঘোষ বলেন, ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যে সামরিক তৎপরতা শুরু হয়েছে, তার অজুহাত হিসেবে 'পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ'-কে সামনে রাখা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯৫০-এর দশকে যখন ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সুসম্পর্ক ছিল, তখন আইজেনহাওয়ার প্রশাসনই ইরানকে পারমাণবিক গবেষণায় মদত দিয়েছিল। তবে আজ কেন সেই কার্যক্রম বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ালো? তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) যখন বলছে ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রমাণ নেই, তখন আমেরিকার এই আক্রমণ আসলে এক প্রকার 'ছদ্মবেশী যুদ্ধ'।




২. তেল রাজনীতি ও আধিপত্যের উচ্চাকাঙ্ক্ষা:


তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পশ্চিম এশিয়ার এই সংকটের মূলে রয়েছে খনিজ তেল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এই তেলের ওপর আধিপত্য ছিল ব্রিটেনের। পরবর্তীকালে সেই জায়গা দখল করে আমেরিকা। তাঁর ভাষায়, "হিটলারের যেমন ছিল সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের থিসিস, আমেরিকার বর্তমান নীতি হলো প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের দাবি নিয়ে বিশ্ব আধিপত্য স্থাপন করা।" তিনি মনে করেন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের মাটির তলার সম্পদের ওপর সেই দেশের অধিকার থাকা উচিত, কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তা মানতে নারাজ।


৩. শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক কৌশল:


ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ইতিহাস টেনে তিনি জানান, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে আমেরিকা ইরানের শিয়া শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মরিয়া। এক সময় আমেরিকা সাদ্দাম হোসেনকে মদত দিয়েছিল ইরানকে চাপে রাখতে, আবার প্রয়োজনে কুর্দিদের ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। এই "ডিভাইড অ্যান্ড রুল" বা বিভাজন নীতিই পশ্চিম এশিয়াকে বছরের পর বছর অশান্ত করে রেখেছে।





৪. হরমুজ প্রণালী ও আন্তর্জাতিক জলপথের গুরুত্ব:


অধ্যাপক ঘোষ ভৌগোলিক গুরুত্বের কথা বলতে গিয়ে 'হরমুজ প্রণালী'র প্রসঙ্গ টানেন। তিনি জানান, বিশ্ব বাণিজ্যের তেলের জাহাজ চলাচলের এই সরু পথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সার্বভৌমত্ব এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত গবেষণার অধিকার ইরানকে এক শক্তিশালী অবস্থানে বসিয়েছে, যা আমেরিকার দুশ্চিন্তার বড় কারণ।

৫. ভারতের ওপর ভূ-রাজনৈতিক কোপ:

বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ভারতের স্বার্থ। অধ্যাপক ঘোষ সতর্ক করে বলেন, ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্প এবং ইন্ডিয়া মিডল ইস্ট ইকোনমিক করিডোর (IMEC) আমেরিকার চক্ষুশূল হতে পারে। কারণ এশিয়ায় ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান অনেক ক্ষেত্রে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৬. সার্বভৌমত্বের শেষ কথা:

বক্তব্যের উপসংহারে তিনি এক গভীর আশঙ্কার কথা শোনান। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে কোনো দেশের সার্বভৌমত্বের আর কোনো সম্মান থাকছে না। রাষ্ট্রসংঘের আদর্শ আজ ভূলুণ্ঠিত। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের ওপর আমেরিকার খবরদারি থেকে শুরু করে ইরানের ওপর আক্রমণ—সবই প্রমাণ করে যে, শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "সার্বভৌমত্বের ধারণা যদি এভাবেই দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে তা বিশ্বশান্তির জন্য পারমাণবিক যুদ্ধের চেয়েও বড় বিপদ ডেকে আনবে।"






উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া


আলোচনা শেষে উপস্থিত শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অধ্যাপক ঘোষ। ভারতের বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এই যুদ্ধের প্রভাব—সব বিষয়ই উঠে আসে আলোচনায়। SIRS-এর পক্ষ থেকে এই ধরণের মননশীল আলোচনার ধারা বজায় রাখার অঙ্গীকার করা হয়।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies