দুর্গাপুর: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ২৭৬-দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রে প্রথম দফায় আগামী ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শিল্পাঞ্চল নির্ভর এই কেন্দ্রে এবার তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং বাম জোটের মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এক নজরে ভোটার পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোট ভোটার সংখ্যা: ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের তথ্য অনুযায়ী এখানে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ২,৬৪,০০৭ জন। যা ২০২১ সালের (২,৫৬,৫৩১ জন) তুলনায় প্রায় ৭,৪৭৬ জন বেশি।
ভোটগ্রহণ কেন্দ্র: সমগ্র কেন্দ্রে মোট ২৯১টি পোলিং স্টেশন বা বুথ থাকছে।
জনবিন্যাস: এই আসনটি প্রধানত শহরকেন্দ্রিক (৮৪.০১% ভোটার শহুরে)। এর মধ্যে তফশিলি জাতি (SC) ভোটার প্রায় ২০.৯৫%, তফশিলি উপজাতি (ST) ৩.৮৮% এবং মুসলিম ভোটার প্রায় ৫.২০%।
নির্ণায়ক শক্তি: নতুন ও যুব ভোটার
২০২৬-এর নির্বাচনে এই কেন্দ্রের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে চলেছেন তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা।
নতুন ভোটার: ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৭,৪৭৬ জন নতুন নাম নথিভুক্ত করেছেন। ২০২৬-এর চূড়ান্ত তালিকায় এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুব শক্তি: তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী যুব ভোটাররা এই কেন্দ্রের মোট ভোটারের প্রায় ২০-২২%। অর্থাৎ, প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৫৫,০০০ যুবকের রায় যে কোনো রাজনৈতিক দলের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিগত ফলাফল
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রদীপ মজুমদার মাত্র ৩,৭৪৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বিধানসভা ভিত্তিক ফলে দেখা গিয়েছে, তৃণমূলের লিড কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১,৬৯৩ ভোটে।
| নির্বাচন | বিজয়ী প্রার্থী | দল | ভোটের ব্যবধান |
| ২০২১ (বিধানসভা) | প্রদীপ মজুমদার | তৃণমূল কংগ্রেস | ৩,৭৪৬ |
| ২০২৪ (লোকসভা লিড) | - | তৃণমূল কংগ্রেস | ১,৬৯৩ |
এই সামান্য ভোটের ব্যবধান প্রমাণ করে যে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে লড়াই কতটা কাঁটায় কাঁটায়। অন্যদিকে, বামেরাও তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ
ভোটগ্রহণ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (প্রথম দফা)
ভোট গণনা: ৪ মে, ২০২৬
শিল্পাঞ্চলের বেকারত্ব, উন্নয়ন এবং স্থানীয় সমস্যার পাশাপাশি যুব প্রজন্মের কর্মসংস্থানের দাবি এবার এই কেন্দ্রের প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে। আগামী ৪ মে ইভিএম খোলার পরই স্পষ্ট হবে দুর্গাপুরের মানুষের রায় কোন দিকে যায়।


