কলকাতা: "দুজন পুরনো বন্ধুর ইগোর ফাইট" বা তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বাইরে বেরিয়ে ভবানীপুরে প্রকৃত পরিবর্তনের ডাক দিল সিপিআই(এম)। বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাসের সমর্থনে প্রকাশিত একটি নতুন প্রচার ভবানীপুরের স্থানীয় সমস্যা এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক বেহাল দশাকে তুলে ধরে 'বিকল্পের' বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর কাটআউট ও পোস্টার দেখিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, শাসক দল ও প্রধান বিরোধী দলের এই লড়াই সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে না।
ভিডিওতে তুলে ধরা প্রধান অভিযোগসমূহ:
নিরাপত্তাহীনতা ও অসামাজিক কাজ: ভবানীপুরের বুকে অচেনা মুখের আনাগোনা, বেপরোয়া বাইকের দাপট এবং মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি, বেআইনি নির্মাণ এবং হুক্কা বারের মতো অসামাজিক কার্যকলাপের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে।
শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা: সরকারি স্কুলগুলি ছাত্র ও শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, শিক্ষা এখন গরিব মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে এবং বন্ধ স্কুলগুলিকে বিয়েবাড়ি বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে ভাড়া দেওয়ার ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। শুধুমাত্র কলকাতাতেই ১১৯টি স্কুল ছাত্রশূন্য বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট: তৃণমূল জমানায় রাজ্যের ঋণ বেড়ে আট লক্ষ কোটি টাকা এবং মাথাপিছু ঋণ ৮০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে ভিডিওতে অভিযোগ করা হয়েছে। শিল্প ও কর্মসংস্থানের চরম অভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সিপিআই(এম)-এর প্রতিশ্রুতি:
ভিডিওর শেষে "শ্রীজীবের চিঠি"-র মাধ্যমে "বাংলা বাঁচাও" ডাক দিয়ে বামফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষ থেকে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে:
দুষ্কৃতী দমন এবং মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
নিয়মিত সরকারি নিয়োগ এবং প্রতিটি পরিবারে অন্তত একটি করে স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা।
২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
নতুন শিল্প গড়ে তোলা।
বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি স্কুলগুলি পুনরায় চালু করে গরিব ও মধ্যবিত্তের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া।
ভিডিওর শেষে সিপিআই(এম) প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস ও তাঁর সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, রাস্তায় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের এই লড়াইকে যেন তারা তাদের ভোটের মাধ্যমে বিধানসভা পর্যন্ত পৌঁছে দেন।


