নাসিক: ২০২৭ সালের সিংহস্থ কুম্ভমেলার প্রস্তুতি ঘিরে নাসিকের তপোবন এলাকায় গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রায় ১,৮২৫টি গাছ কাটার এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পরিবেশবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে শেষমেশ ন্যাশনাল গ্রিন ট্রিব্যুনাল (NGT) এই গাছ কাটার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
মূল ঘটনা ও প্রতিবাদ
২০২৭-এর কুম্ভমেলা উপলক্ষে নাসিক মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (NMC) তপোবন এলাকায় প্রায় ৩০০ একর জমিতে 'সাধু গ্রাম' এবং পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করেছে। এই কাজের জন্যই প্রায় ১,৮০০-র বেশি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ:
গাছগুলোর মধ্যে অনেক গাছই কয়েকশ বছরের পুরনো।
তপোবনের সবুজায়ন নষ্ট হলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
পরিবেশকর্মী মণীশ বাভিস্কার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এনজিটি-তে পিটিশন দাখিল করেন।
প্রশাসনের যুক্তি
নাসিকের মেয়র এবং সরকারি আধিকারিকদের মতে, আসন্ন মেলায় প্রায় ১২ থেকে ১৫ কোটি ভক্তের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপুল এই জনস্রোত সামাল দিতে রাস্তা চওড়া করা এবং সাধু গ্রাম তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
শুধুমাত্র ১০ বছরের কম বয়সী গাছগুলোই কাটা হবে।
একটি গাছ কাটা হলে তার পরিবর্তে ১০টি নতুন চারাগাছ রোপণ করা হবে।
কিছু প্রাচীন গাছ অন্য জায়গায় স্থানান্তর (transplantation) করার চেষ্টাও চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদের মুখে এনজিটি-র পুনে বেঞ্চ আগামী ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত গাছ কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ট্রিব্যুনাল নাসিক মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনকে তাদের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কুম্ভমেলা শুরু হওয়ার কথা ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ থেকে, যা জুলাই ২০২৮ পর্যন্ত চলবে। একদিকে উন্নয়নের প্রয়োজন আর অন্যদিকে প্রকৃতি রক্ষার দায়—এই দুইয়ের লড়াই এখন তুঙ্গে নাসিকে।
এই ভিডিওটিতে নাসিক কুম্ভমেলার প্রস্তুতির জন্য ১,৮০০টি গাছ কাটার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের ক্ষোভ এবং এই সংকটের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


