হারদোই, উত্তরপ্রদেশ: বর্তমান সময়ে শিক্ষা কি আর সমাজসেবা বা উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে রয়ে গেছে, নাকি এটি একটি বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে? উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলার একটি বেসরকারি স্কুলের ঘটনা এই প্রশ্নটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
কী ঘটেছিল?
সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে যেখানে হারদোইয়ের 'সানবিম স্কুলে'র প্রিন্সিপাল মমতা মিশ্রকে এক ছাত্রের অভিভাবকের সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রিন্সিপাল ওই ছাত্রের মাকে অত্যন্ত অপমানজনক ভাষায় কথা বলছেন এবং তাকে স্কুল থেকে বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দিচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত
জানা গেছে, ওই ছাত্রের পরিবার স্কুল থেকে নির্ধারিত বেশি দামের বই না কিনে বাইরের দোকান থেকে কম দামে একই বই সংগ্রহ করেছিল। স্কুলের ভেতর থেকে বই না কেনাই যেন ছিল ওই অভিভাবকের 'অপরাধ'। এই বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রিন্সিপাল। তিনি অভিভাবকের সাথে এমন আচরণ করেন যা একজন শিক্ষাবিদ বা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে অভাবনীয়।
অভিভাবকের অভিযোগ
অভিভাবকদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক তাদের ওপর চড়া দামের বই, ইউনিফর্ম এবং অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী চাপিয়ে দিচ্ছে। বাইরে যা অনেক কম মূল্যে পাওয়া সম্ভব, স্কুলের ভেতরে তারই দ্বিগুণ বা তিনগুণ দাম রাখা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় বা নিয়ম না মানায় অনেক সময় ছাত্রছাত্রীদের নাম কেটে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নেটিজেনরা ওই প্রিন্সিপালের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—
স্কুল কি এখন শুধুই মুনাফা অর্জনের ব্যবসা ক্ষেত্র?
একজন অভিভাবকের সাথে এমন অবমাননাকর আচরণ কি আইনত দণ্ডনীয় নয়?
কেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে স্কুলের নির্ধারিত চড়া দামের সামগ্রী কিনতে বাধ্য করা হবে?
শিক্ষা ব্যবস্থার এই বাণিজ্যিকীকরণ নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে হারদোইয়ের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকতার মহান পেশাটি আজ শুধুমাত্র মুনাফা অর্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আপনার কি মনে হয়? স্কুলগুলির কি এভাবে ব্যবসা করা উচিত? আপনার মতামত নিচে শেয়ার করতে পারেন।


