" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory মে দিবস ২০২৬: কর্পোরেট শোষণের হাতিয়ার 'নতুন শ্রম কোড'-এর বিরুদ্ধে বামপন্থীদের তীব্র লড়াইয়ের ডাক //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

মে দিবস ২০২৬: কর্পোরেট শোষণের হাতিয়ার 'নতুন শ্রম কোড'-এর বিরুদ্ধে বামপন্থীদের তীব্র লড়াইয়ের ডাক

 



নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর, ১ মে ২০২৬:

আজ পয়লা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেই অর্জিত অধিকারই চরম সঙ্কটের মুখে। বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলির মতে, এবারের মে দিবস নিছক উদযাপনের নয়, বরং দেশজুড়ে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার যে নজিরবিহীন চক্রান্ত চলছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধের শপথ নেওয়ার দিন।


ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ও বামপন্থী দৃষ্টিকোণ


১৯২৩ সালের ১ মে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) হিন্দুস্তান লেবার কিষান পার্টির হাত ধরে ভারতে প্রথম মে দিবস পালিত হয়েছিল। বামপন্থী সংগঠনগুলির দাবি, আজ এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর শ্রমিকদের পুনরায় সেই ১৮৮৬ সালের মতোই রাজপথে নামতে হচ্ছে। কারণ, পুঁজিপতিদের স্বার্থে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের অধিকার কেড়ে নিয়ে পুনরায় ১২ ঘণ্টা খাটানোর আইনি পথ প্রশস্ত করেছে শাসক শ্রেণি। মে দিবস তাই বামপন্থীদের কাছে নিছক ছুটির দিন নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।


নতুন শ্রম কোড: শ্রমিক শোষণের নয়া হাতিয়ার


স্বাধীনতার পর থেকে শ্রমিক আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত ৫১টি শ্রম আইনের মধ্যে ২৯টি পুরনো আইন বাতিল করে গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কেন্দ্রীয় সরকার চারটি নতুন শ্রম কোড কার্যকর করেছে। বামফ্রন্ট এবং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ স্বাধীনতার পর শ্রমিক অধিকারের ওপর সবচেয়ে বড় আক্রমণ।


চারটি বিতর্কিত কোড হল


১. Code on Wages, 2019 (মজুরি বিধি)

২. Occupational Safety, Health & Working Conditions Code, 2020 (কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি)

৩. Social Security Code, 2020 (সামাজিক সুরক্ষা বিধি)

৪. Industrial Relations Code, 2020 (শিল্পসম্পর্ক বিধি)



শ্রমিকদের ঘোর আশঙ্কার কারণগুলি কী কী?


বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নগুলির মতে, কেন্দ্র সরকারের দাবি অনুযায়ী এই কোড বিনিয়োগ বাড়ালেও, বাস্তবে এটি শ্রমিকদের পুরোপুরি কর্পোরেট দাসত্বে বাধ্য করবে:

  • কাজের সময়সীমা বৃদ্ধি: ৮ ঘণ্টার বদলে ১২ ঘণ্টা কাজ করানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যা মে দিবসের মূল চেতনার চরম পরিপন্থী এবং শ্রমিকের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

  • অবাধ ছাঁটাইয়ের অধিকার: আগে ১০০ জনের বেশি কর্মী থাকলে ছাঁটাইয়ের জন্য সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হতো। এখন সেই সীমা বাড়িয়ে ৩০০ করা হয়েছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক যখন-তখন কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

  • আইনি সুরক্ষার বাইরে ৭০% শ্রমিক: কারখানার সংজ্ঞায় বদল এনে কর্মীসংখ্যার সীমা বাড়ানো হয়েছে (বিদ্যুৎ চালিত কারখানায় ১০ থেকে ২০ এবং বিদ্যুৎহীন কারখানায় ২০ থেকে ৪০)। এর ফলে দেশের প্রায় ৪৩.২% কারখানা এবং ৭০% শ্রমিক আইনি সুরক্ষার বাইরে চলে যাবেন।

  • ধর্মঘটের অধিকার হরণ: যেকোনো ধর্মঘটের আগে ১৪ দিনের নোটিশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নোটিশ দিলেই মীমাংসা প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সেই সময়ে ধর্মঘট বেআইনি গণ্য হবে। এটি শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার সামিল।

  • চুক্তিভিত্তিক শ্রমের রমরমা: অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকের সীমা ২০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে, যা স্থায়ী চাকরির ধারণাকেই ধ্বংস করছে। এছাড়া মজুরির সংজ্ঞা বদলে দেওয়ায় মহিলা শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধাও কমার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।


ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপট ও আগামী দিনের সংগ্রাম


দেশের মোট শ্রমশক্তির ৯৩% অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ১৬ কোটিরও বেশি কর্মসংস্থান হলেও তার অধিকাংশই চুক্তিভিত্তিক বা গিগ ওয়ার্ক (যেমন ডেলিভারি কর্মী)। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা (পেনশন, ESI, গ্র্যাচুইটি) মালিকের ইচ্ছাধীন করে দেওয়ায় ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকারে।

তবে প্রতিরোধের আগুনও জ্বলছে। পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যেই এই জনবিরোধী শ্রম কোড প্রত্যাখ্যান করেছে এবং রাজ্যে তা বাস্তবায়ন না করার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এই ভয়াবহ আক্রমণের মোকাবিলায় এবারের মে দিবসে বামপন্থী ও অন্যান্য প্রগতিশীল ট্রেড ইউনিয়নগুলি একজোট হয়ে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা—নতুন শ্রম কোড বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। ২০২৬ সালের এই মে দিবস তাই অধিকার রক্ষার এক নতুন কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে যে অধিকার কেউ স্বেচ্ছায় দেয় না, নিরন্তর লড়াই করে তা আদায় করে নিতে হয়।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies