নয়াদিল্লি: আগামী ২০ মে, ২০২৬, বুধবার ভারতের ওষুধ বাজারে বড়সড় অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ই-ফার্মাসি বা অনলাইনে ওষুধ বিক্রির সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওইদিন দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ওষুধ বিক্রেতাদের বৃহত্তম সংগঠন 'অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস' (AIOCD)।
এই ধর্মঘটের ফলে সারা দেশের প্রায় ৯ লক্ষ খুচরো দোকান এবং ১২ হাজার পাইকারি ওষুধ বিক্রেতা সাময়িকভাবে ব্যবসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কেন এই ধর্মঘট?
এআইওসিডি (AIOCD)-র পক্ষ থেকে একগুচ্ছ দাবির ভিত্তিতে এই বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে:
অনলাইন বিক্রি বন্ধ: কেন্দ্রীয় সরকারের ২০১৮ সালের নোটিফিকেশন (GSR 817) প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে, যার মাধ্যমে ই-ফার্মাসি নিয়ন্ত্রণ সহজ করা হয়েছিল।
অসম প্রতিযোগিতা: বড় কর্পোরেট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো ৩০-৪০% পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। এর ফলে পাড়ার ছোট ও মাঝারি ওষুধ বিক্রেতারা চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
নকল ওষুধের আশঙ্কা: সংগঠনের অভিযোগ, অনলাইন ব্যবস্থার ওপর যথাযথ নজরদারি না থাকায় জাল বা নিম্নমানের ওষুধের রমরমা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ: সংগঠনটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে যাতে ছোট ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা হয়।
হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবা ছাড় পাবে
সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে এই ধর্মঘট থেকে হাসপাতালের ভেতরের ফার্মাসি এবং জরুরি জীবনদায়ী ওষুধের সরবরাহকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ খুচরো দোকান বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ এড়াতে সাধারণ মানুষকে ২০ মে-র আগে প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত করে রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিক্রেতা সংগঠনটি।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ধর্মঘট নিয়ে রাজ্যভেদে মতভেদও দেখা দিয়েছে। একদিকে মেঘালয় হেলথ কেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (MHCA) এই ধর্মঘটকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে, অন্যদিকে অসম ড্রাগ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন এই বন্ধে সামিল না হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে বাংলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মঘটের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে।
দ্রষ্টব্য: ইতিপূর্বে ২০১৫, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালেও একই দাবিতে দেশজুড়ে ধর্মঘট পালন করেছিলেন ওষুধ বিক্রেতারা। সরকার বারবার নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দিলেও সমাধান না হওয়ায় আবারও আন্দোলনের পথে হাঁটছেন তাঁরা।


