" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory সিঙ্গরৌলির জঙ্গলে ৬ লক্ষ গাছ কাটার অভিযোগ, আদানির ধিরাউলি কয়লাখনি ঘিরে পরিবেশ বিতর্ক তীব্র //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

সিঙ্গরৌলির জঙ্গলে ৬ লক্ষ গাছ কাটার অভিযোগ, আদানির ধিরাউলি কয়লাখনি ঘিরে পরিবেশ বিতর্ক তীব্র

 


ভিউজ নাউ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের সিঙ্গরৌলি অঞ্চলে আদানি গোষ্ঠীর ধিরাউলি (Dhirauli) কয়লাখনি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নতুন করে পরিবেশগত বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পরিবেশকর্মী, আদিবাসী সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৬ লক্ষ গাছ কাটার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ বন উজাড়ের ঘটনাগুলির মধ্যে একটি হতে পারে।


জানা গেছে, ধিরাউলি কয়লাখনি প্রকল্পের মোট আয়তন প্রায় ২,৬৭২ হেক্টর, যার মধ্যে প্রায় ১,৩৯৭.৫৪ হেক্টর বনভূমি রয়েছে। এই খনি থেকে বছরে সর্বাধিক ৬.৫ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে আদানি গোষ্ঠীর সহযোগী সংস্থা Mahan Energen Limited পরিচালনা করছে।


পরিবেশবিদদের দাবি, এই বনাঞ্চলে বহু শতাব্দী প্রাচীন গাছ রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকের বয়স ৫০০ বছরেরও বেশি হতে পারে। এছাড়াও, প্রকল্প এলাকার মধ্য দিয়েই একটি গুরুত্বপূর্ণ এশীয় হাতির চলাচল করিডর রয়েছে। ফলে বনভূমি ধ্বংস হলে হাতি-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও চলাচলের পথ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন যে বনাধিকার আইন (Forest Rights Act) এবং পেসা (PESA) আইনের বিধান যথাযথভাবে মানা হয়নি। তাঁদের দাবি, গ্রামসভাগুলির অনুমোদন আদায়ের ক্ষেত্রে চাপ ও ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। কংগ্রেস নেতা Jairam Ramesh এই প্রকল্পকে "পরিবেশগত ট্র্যাজেডি" বলে উল্লেখ করেছেন।


অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশ সরকার ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, প্রকল্পটির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র যথাযথভাবে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, বনভূমি ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিভিন্ন জেলায় ১৩.৯৭ লক্ষ চারা গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার আরও জানিয়েছে, প্রকল্প এলাকা পেসা বা পঞ্চম তফসিলভুক্ত অঞ্চলের আওতায় পড়ে না।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক প্রকল্পটির চূড়ান্ত বন ছাড়পত্র প্রদান করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ওই অনুমোদনের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে। ফলে আইনি দিক থেকে প্রকল্পের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে।


তবে পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, কয়লা উত্তোলনের স্বার্থে প্রাচীন বনভূমি ধ্বংস হলে শুধু জীববৈচিত্র্যই নয়, এলাকার জলসম্পদ, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকাও দীর্ঘমেয়াদে বিপদের মুখে পড়বে।

বর্তমানে সিঙ্গরৌলির ধিরাউলি প্রকল্প ভারতের উন্নয়ন বনাম পরিবেশ সংরক্ষণ বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বনায়ন কর্মসূচির সাফল্য এবং স্থানীয় জনগণের পুনর্বাসন কীভাবে হয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই বিতর্কের চূড়ান্ত মূল্যায়ন।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies