নয়াদিল্লি, ৩০ মে: দেশের শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে আগামী ২৯ জুলাই ২০২৬ দিল্লির তালকাটোরা স্টেডিয়ামে একটি জাতীয় শ্রমিক-কৃষক কনভেনশন আয়োজনের ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির যৌথ মঞ্চ (CTUs) এবং সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM)।
শুক্রবার যৌথভাবে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ১৩ মে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দেশের সমস্ত রাজ্য ও জেলার হাজার হাজার শ্রমিক, কৃষক ও গণআন্দোলনের প্রতিনিধিরা এই কনভেনশনে অংশ নেবেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সর্বভারতীয় সাধারণ ধর্মঘটের ধারাবাহিকতায় এই কনভেনশন ভবিষ্যতের যৌথ সংগ্রামের কর্মসূচি ঘোষণা করবে। কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের শ্রমিক, কৃষক ও জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হবে।
যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— C2+50 শতাংশ হারে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) ও সরকারি ক্রয়ের গ্যারান্টি, সর্বজনীন ন্যূনতম মজুরি, কর্মসংস্থানের অধিকার, কৃষি ঋণ মুকুব, জাতীয় স্বার্থবিরোধী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) বাতিল, চার শ্রম কোড প্রত্যাহার, VB Gram G Act 2025 বাতিল, বিদ্যুৎ বেসরকারিকরণ রোধ, প্রস্তাবিত বীজ বিল বাতিল এবং LARR Act 2013 কার্যকর করা।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে কেন্দ্রের সরকার কর্পোরেট স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের শ্রমিক-কৃষকদের উপর অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী নীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র বিপদের মুখে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে সরকারি সংস্থা ও বিপুল অর্থব্যয়ের অপব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনী সাফল্য পেলেও দেশের শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত দুর্দশাকে উপেক্ষা করছে। ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংঘাতের ফলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পথ নেওয়া হয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনগুলির মতে, রান্নার গ্যাসের ঘাটতি, সারের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির ফলে শ্রমজীবী ও কৃষক পরিবারগুলি চরম সমস্যার মুখে পড়েছে। অথচ অতিধনীদের উপর কর আরোপ না করে সরকার ব্যয়সংকোচনের নীতি গ্রহণ করেছে।
এছাড়াও, শ্রম কোড বাস্তবায়নের নিয়মাবলি জারি এবং VB Gram G Act 2025 প্রবর্তনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক MGNREGA Act 2005-এর গুরুত্ব খর্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দেশের আপেল চাষি, ফল ও মাংস শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষি অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
যৌথ মঞ্চ সম্প্রতি এনসিআর-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের প্রশংসা করেছে। পাশাপাশি শ্রমিক আন্দোলনের উপর পুলিশি দমন, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার এবং প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবিও জাতীয় কনভেনশনে গুরুত্ব পাবে বলে জানানো হয়েছে।
সংগঠনগুলির দাবি, ২৯ জুলাইয়ের এই জাতীয় কনভেনশন শ্রমিক, কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করবে এবং দেশজুড়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনের নতুন দিশা নির্ধারণ করবে।


