" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory ওয়াজিরপুর শিল্পাঞ্চলে বুলডোজার অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে সিপিআই(এমএল) //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

ওয়াজিরপুর শিল্পাঞ্চলে বুলডোজার অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে সিপিআই(এমএল)

 



নয়াদিল্লি, ৩ মে ২০২৬:

গতকাল ওয়াজিরপুর শিল্পাঞ্চলে আকস্মিক বুলডোজার অভিযানে বহু মানুষ তাঁদের বাড়িঘর ও জীবিকা হারিয়েছেন। আজ সিপিআই(এমএল) [CPI(ML)], এআইসিসিটিইউ [AICCTU], এআইপিডব্লিউএ [AIPWA] এবং আইসা [AISA]-র একটি যৌথ প্রতিনিধি দল ওয়াজিরপুর শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করে। সিপিআই(এমএল)-এর পলিটব্যুরো সদস্য এবং দিল্লি রাজ্য সম্পাদক কমরেড রবি রাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের প্রতি পূর্ণ সংহতি জ্ঞাপন করেন।

গত ২ মে, ২০২৬ তারিখে চালানো এই অমানবিক বুলডোজার অভিযানে প্রায় ২০০টি পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



ক্ষতিগ্রস্তদের বয়ান

বুলডোজার হামলায় সর্বস্বান্ত রামেশ্বরী দেবী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:

"আমি একটি ছোট দোকান চালিয়ে কোনওরকমে সংসার চালাই। বুলডোজারের তলায় আমার সব জিনিসপত্র পিষ্ট হয়ে গেছে। আমার আর বেঁচে থাকার কোনও সম্বলই রইল না।"

 

ওয়াজিরপুর শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দা পূজা বলেন:


"এই বুলডোজার চালানোর আগে আমাদের কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। আমরা এখন আমাদের সমস্ত জিনিসপত্র এবং সন্তানদের নিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছি। আমরা ২৬ বছর ধরে এখানে থাকছিলাম। আমাদের যা কিছু ছিল, সব ধ্বংস হয়ে গেছে।"

বেশিরভাগ পরিবারই জানিয়েছে যে, বুলডোজারের তলায় তাদের সহায়-সম্বল সব গুঁড়িয়ে গেছে। গতকাল থেকে তারা প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছে এবং খোলা রাস্তায় জিনিসপত্র ফেলে রেখে কেউ কাজেও যেতে পারছে না।

ওয়াজিরপুরের আরেক বাসিন্দা সুষমা দেবী তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন:

"গতকাল রাত ১টার সময় এমসিডি (MCD)-র লোকেরা ধ্বংসস্তূপ সরাতে আসে এবং তার সাথে আমাদের বেঁচে থাকা জিনিসপত্রও জোর করে নিয়ে যেতে শুরু করে। অনেক প্রতিবাদের পর আমরা আমাদের সামান্য জিনিসপত্র বাঁচাতে পেরেছি। এই মুহূর্তে আমাদের না আছে জীবিকা, না আছে মাথার উপর ছাদ, না আছে পেটে খাবার।"

বাসিন্দা সরোজ বলেন:

"এই বুলডোজার অভিযানে বাচ্চাদের বইপত্রও পিষ্ট হয়ে গেছে। বাচ্চারা কাঁদছে। আমরা গরিব মানুষ। কোথা থেকে ওদের জন্য নতুন বই-খাতা কিনে আনব?"

 



প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণ ও ক্ষোভ প্রকাশ


সিপিআই(এমএল) প্রতিনিধি দল ওয়াজিরপুর শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে যে, প্রশাসন এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনওরকম পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেনি।

মে দিবসের ঠিক পরের দিন সকালেই শ্রমিকদের একটি আবাসিক এলাকায় এমন ধ্বংসলীলা চালানোকে প্রতিনিধি দল 'অত্যন্ত লজ্জাজনক' বলে আখ্যা দিয়েছে। এই এলাকায় বসবাসকারী শ্রমিকদের বেশিরভাগই হলেন সাফাইকর্মী, কারখানার শ্রমিক, গিগ শ্রমিক, পরিচারিকা, ই-রিকশা চালক, নির্মাণকর্মী এবং রাস্তার ধারের ছোট খাবার বিক্রেতা।


এমসিডি, রেলওয়ে প্রশাসন এবং দিল্লি পুলিশ ব্যাপক পুলিশি পাহারায় গরিব মানুষের বাড়িঘরের ওপর দিয়ে বুলডোজার চালিয়েছে। অথচ সরকারের তরফ থেকে ন্যূনতম কোনও পুনর্বাসন বা সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়নি। বিজেপি সরকারের শাসনে জাতীয় রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ক্রমাগত এই বুলডোজার নীতি চলছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত অসংখ্য গরিব মানুষের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।




সিপিআই(এমএল)-এর প্রধান দাবিসমূহ:


১. সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য অবিলম্বে সম্মানজনক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

২. গরিবদের বাসস্থানে এই বেআইনি বুলডোজার অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

৩. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ক্ষয়ক্ষতির জন্য অবিলম্বে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies