কলকাতা, ১১ মে, ২০২৬: দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) হাতে গ্রেপ্তার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী তথা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে হেফাজতে নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সূত্রের খবর, এদিন সকাল ১০:৩০ নাগাদ ছেলে এবং আইনজীবীকে সাথে নিয়ে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন বিধাননগরের বিধায়ক। মূলত দক্ষিণ দমদমসহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নিয়োগে অনিয়ম এবং অর্থপাচারের (Money Laundering) অভিযোগে তাকে তলব করা হয়েছিল।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জল অনেক দূর গড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাটির দাবি, সুজিত বসু যখন দক্ষিণ দমদম পৌরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলেন, সেই সময় থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির সূত্রপাত। ইডির অভিযোগের মূল ভিত্তি হলো:
উৎকোচ গ্রহণ: অভিযোগ উঠেছে, আর্থিক বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরির সুপারিশ করেছিলেন তিনি।
তল্লাশিতে প্রাপ্ত তথ্য: ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সুজিত বসুর বাড়ি, অফিস এবং তার ছেলের রেস্তোরাঁসহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা নগদ এবং প্রচুর নথিপত্র উদ্ধার করেছিল ইডি।
তদন্তের পরিধি: তদন্তকারীদের মতে, রাজ্যের অন্তত ১৬টি পৌরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, যার সাথে প্রভাবশালী যোগসূত্র রয়েছে।
"দুর্নীতি প্রমাণ হলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব"— অতীতে একাধিকবার এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন সুজিত বসু। তবে সোমবারের নাটকীয় গ্রেপ্তারির পর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সুজিত বসুর এই গ্রেপ্তারিতে সরগরম বাংলার রাজনীতি। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে।
| গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | বিবরণ |
| আটক করার সময় | ১১ মে, ২০২৬ (সন্ধ্যা) |
| অভিযোগ | পৌরসভা নিয়োগে দুর্নীতি ও অর্থপাচার |
| সংশ্লিষ্ট পৌরসভা | দক্ষিণ দমদম ও অন্যান্য |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | বিশেষ আদালতে পেশ ও রিমান্ডের আবেদন |
ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার তাকে বিশেষ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তারি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কত বড় মোড় আনে, এখন সেটাই দেখার।


